চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতাসীন বিএনপির বিভিন্ন কার্যক্রমে ‘অতিসাংবিধানিকতা’ দেখছে। দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, কোনো ধরনের ছলচাতুরি, সংবিধানের প্রতি অতিভক্তি দেখানো বন্ধ করে গণভোট ও জুলাই সনদ গণরায় অনুসারে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে সংশোধনী এনে বিএনপি সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে অতিক্ষমতায়ন করতে চাইছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, একক ব্যক্তিকে অতিক্ষমতায়িত করার পরিণতি জাতি ভোগ করেছে। আমরা আর কোনো অতিক্ষমতায়িত ব্যক্তি চাই না।

বৈঠকে দলের মহাসচিব বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দাঁড়িয়ে আছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ওপর। জুলাই অভ্যুত্থান না হলে এখনো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দেশ পরিচালনা করার কথা। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান কোনো ‘সাংবিধানিক’ বিষয় নয়; বরং বিদ্যমান সংবিধানের সুযোগে সৃষ্ট স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনতার গণ–ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। আর আধুনিক রাষ্ট্রে গণ–ইচ্ছাই সর্বোচ্চ আইন।

বিএনপি সরকারের উদ্দেশে এই নেতা বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পর গঠিত সংস্কার কমিশন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও সব রাজনৈতিক দলের যৌথ মতামতে গৃহীত এবং গণভোটের মাধ্যমে জনরায়ে পরিণত হওয়া সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে “অতিসাংবিধানিকতা” না দেখিয়ে সংস্কার সাধনে আন্তরিক হোন। সরকারের মন্ত্রীরা যে অর্থে সাংবিধানিকতাকে হাজির করছেন, সেই অর্থে এই সংসদও সাংবিধানিক নয়। তবে আমরা মনে করি, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান, গণভোট ও এই সংসদ সবকিছুই জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় বলে সাংবিধানিক।’

গণভোট–সম্পর্কিত অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একধরনের সংশয় তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমদ। তিনি বলেন, আজকের আইনমন্ত্রী (মো. আসাদুজ্জামান) গণভোট অধ্যাদেশ জারির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তখন তাঁর দপ্তর থেকে গণভোট অধ্যাদেশকে আইনসম্মত বলা হলেও আজ যখন তিনি আইনমন্ত্রী, তখন তাঁর দপ্তর থেকে বলা হচ্ছে, যে আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে, তা নাকি ছিল এখতিয়ারবহির্ভূত! সুতরাং অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা যাবে না। আইনমন্ত্রীর এই দ্বিমুখী মতামত নৈতিকতাবহির্ভূত এবং গণরায়কে উপেক্ষা করার নামান্তর।

ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম প্রমুখ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।