পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথার তুমুল লড়াইয়ে নামছেন। অমিত শাহ দাবি করেছেন, জনগণের বিপুল সমর্থনে বিজেপি এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া সতর্ক করে বলেছেন, নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ থেকে পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।

আজ শনিবার কলকাতার নিউটাউনের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে অমিত শাহ বলেন, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে জনগণের বিপুল রায় নিয়ে বিজেপি রাজ্য সরকার গড়বে।

তৃণমূল কংগ্রেসকে টার্গেট করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরের শাসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়ে রাজ্যে সিন্ডিকেটের রাজত্ব কায়েম করেছেন। মিথ্যা ও হিংসার রাজনীতিকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে তারা। রাজ্যে শিল্পায়ন না হয়ে দুর্নীতি আর বিভেদের রাজনীতির শিকার হয়েছে রাজ্যবাসী। মানুষ এখন বলছেন, এর চেয়ে কমিউনিস্টদের শাসন ভালো ছিল।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটের সঙ্গে দেশের সুরক্ষার বিষয়টি জড়িত উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আসামের মতো এই রাজ্যেও অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। সুরক্ষিত করা হবে রাজ্যের ৬০০ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত। একজন অনুপ্রবেশকারীও ঢুকতে পারবে না।

সংবাদ সম্মেলনে ‘চার্জশিট’ নামের একটি পুস্তিকা মোড়ক উন্মোচন করেন অমিত শাহ। ‘তৃণমূলের ১৫ বছরের অপশাসন: রক্তাক্ত পশ্চিমবঙ্গের অভিশপ্ত অধ্যায়’ শিরোনামে এই পুস্তিকায় তৃণমূল সরকারের নানা দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরা হয়েছে বলে জানায় বিজেপি।

অন্যদিকে আজ বর্ধমানের রানীগঞ্জে এক নির্বাচনী জনসভায় বিজেপির কড়া সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে বিজেপির ‘মৃত্যুবাণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, এই বাণই আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে শেষ করে দেবে। বাংলায় বিজেপি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।

নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলেও কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বেআইনি অর্থ ঢোকাতে চক্রান্ত করে ১০০ কর্মকর্তাকে তামিলনাড়ুতে বদলি করা হয়েছে।