ইরানের নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তি না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা করলে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা বিপন্ন হবে।

রেজা পাহলভি ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহ পলাতক প্রয়াত মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির ছেলে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

গতকাল শনিবার টেক্সাসে রক্ষণশীল রিপাবলিকান সংগঠন কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সের (সিপিএসি) বার্ষিক সম্মেলনে রেজা পাহলভি এসব কথা বলেন। মঞ্চে উঠলে উপস্থিত জনতা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়। সেই সময় তিনি ইরানকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করেন এবং ইরানি জনগণকে আবার রাজপথে নামার আহ্বান জানান।

চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রতি দুই বছর অন্তর ইরানের হুমকির মুখোমুখি হতে চান না বলেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাহলভি বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা মানে আবারও একই বিপদ ডেকে আনা।

পাহলভি বলেন, ‘ইরানের এই শাসনব্যবস্থা শুধু সময়ক্ষেপণ, প্রতারণা ও লুটপাটের ওপর টিকে আছে। তারা কখনো শান্তির পথে সৎ সঙ্গী হতে পারবে না। আলোচনার নাটক করবে ঠিকই, কিন্তু পরে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’ ৪৫ বছর পর দেশে ফেরার পথ খুঁজছেন ৬৫ বছর বয়সী পলাতক শাহর এই ছেলে। পাহলভি নিজেকে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের যোগ্য নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে ইরানের বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত।

এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এর আগে পাহলভির নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ইরানের ভেতর থেকে কেউ উঠে এলে সেটা বেশি কার্যকর হতে পারে।

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিজ দেশে প্রসিডেন্ট হিসেবে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ায় যুদ্ধের এক মাসের মাথায় কঠিন সংকটে পড়েছেন ট্রাম্প। তাঁকে হয় একটি নড়বড়ে চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে হবে, নয়তো দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের ঝুঁকি নিতে হবে। পাহলভির বাবা রেজা শাহ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার হিসেবে ছিলেন বলে ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে। ইরানের স্বার্থের চেয়ে তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন। ইরানের তেলসম্পদকে তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দেন।

বক্তব্যে রেজা পাহলভি মার্কিন স্বার্থের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কল্পনা করুন—ইরানের মানুষ ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ বলার বদলে ‘ঈশ্বর যুক্তরাষ্ট্রের মঙ্গল করুন’ বলছে। একটি মুক্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে বলেও মত দেন তিনি।

গত জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া পাহলভি বলেন, ‘সঠিক সময় এলে আমি আবারও জনগণকে গর্জে ওঠার ডাক দেব। তারা তাদের দেশ, সম্মান আর ভবিষ্যৎ ছিনিয়ে নেবে।’