‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’ জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আজ রবিবার দুপুর ১২টার পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানববন্ধন গড়ে তুলেছে। এতে জুলাই আহত যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই ও সংস্কার নিয়ে কাজকরা সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, সরকার সংবিধানের কথা বলেছেন। সংবিধানে অনেক কিছু আছে। যেটা নেই সেটা হচ্ছে গণ–অভ্যুত্থান। যেটা নেই সেটা হচ্ছে বিপ্লব। যেটা নেই সেটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর পালিয়ে যাওয়া। সেগুলো কোনোটাই সংবিধানে লেখা নেই। কিন্তু সেগুলোকে আমরা আলিঙ্গন করেছি। কারণ, জনগণ ভিন্ন বাংলাদেশ চায়, সেটা রক্ত দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে।
শহিদুল আলম বলেন, ‘আপনারা গদিতে আছেন, সেটাও কিন্তু জনগণের রায় এবং আপনারা যদি সেই রায়টা গ্রহণ করতে পারেন, অন্য রায়টা গ্রহণ করা এত কঠিন হয়ে যায় কেন, সেটা আমরা বুঝি না।…যা বলা হচ্ছে তার সবকিছুর সঙ্গে হয়তো আপনার মত না মিলতে পারে, আমার মত না মিলতে পারে, এখানে অনেকেই আছে, যারা সম্পূর্ণভাবে পুরো জিনিসটাকে গ্রহণ নাও করতে পারে।’
শহিদুল আলম আরও বলেন, ‘সার্বিকভাবে রায় জনগণ দিয়েছে এবং যে রায় জনগণ দিয়েছে সেটাকে আপনার মানতে হবে। কারণ, যদি সত্যিকার অর্থেই আপনি বিশ্বাস করেন জনগণ সবার ওপরে, সংবিধানের ওপরে, তাহলে জনগণকে, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার আপনার-আমার কারোরই কোনো সুযোগ নেই।’
‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’–এর সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘আমরা মনে করি যে আজকে কতক্ষণ পরে যেই সংসদ আবারও বসতে যাচ্ছে, সেই সংসদের সবচেয়ে প্রথম কাজ হওয়া উচিত এই সংবিধান সংস্কারের ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া—কবে নাগাদ এই সংবিধান সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হবে এবং কীভাবে এই সংবিধান সংস্কার সভা তার কাজ শুরু করবে।’
সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা গণভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উল্লেখ করে ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক একটা ব্যাপার যে যেই গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে, সেই গণরায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বাকি ২৩০ জন সংসদ সদস্যও যেন অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেব শপথ গ্রহণ করেন এবং গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত যে গণরায়, সেটা বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন।’
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন বলেন, জুলাই হয়েছিল যাতে বাংলাদেশ আর কোনো দিন কোনো স্বৈরাচারের মুখে না পড়ে। শুধু নির্বাচন দিয়ে এই স্বৈরাচার হওয়া ঠেকানো যাবে না। এটাকে ঠেকানোর জন্যই জুলাই সনদ। এই সনদকে পালন না করা, এই গণভোটকে অস্বীকার করা—এটা হচ্ছে বাংলাদেশবিরোধী।






