ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রায়হান রাফি পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ নিয়ে অভিনয়শিল্পী অপি করিমের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত একটি পোস্টে তিনি ছবিটির গল্প, নির্মাণ ও অভিনয়ের দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেছেন।

অযথা নাচ-গান বা সংঘাতের বদলে শক্তিশালী কাহিনি ও নির্মাণমান দিয়ে দর্শককে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এই ছবি বলে মনে করেন তিনি। রায়হান রাফির পূর্ববর্তী কাজগুলোর চেয়ে এটি ভিন্নধর্মী এবং পরিচালকের নতুন এক রূপ উন্মোচিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অপি করিম।

ছবির অভিনয়শিল্পীদের পারফরম্যান্সেও তিনি সন্তুষ্ট। বিশেষ করে নাজিফা তুষির অভিনয় তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তুষির অভিনয়ে যে তীব্রতা রয়েছে তা গল্পের আবহকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি রিজভী রিজু ও ফজলুর রহমান বাবুর অভিনয়ও দর্শকের মনে দাগ কাটার মতো বলে মন্তব্য করেন অপি করিম।

কারিগরি দিকগুলোতেও শতভাগ যত্নের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে বলে মনে করেন তিনি। সিনেমাটোগ্রাফি, সম্পাদনা, সাউন্ড, সেট, কস্টিউম, মেকআপ ও লোকেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই যত্ন পরিলক্ষিত হয়। তবে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ছবির কিছু অংশ সংক্ষিপ্ত করা বা কিছু চরিত্র বাদ দেওয়া হলে গল্পটি আরও সংহত হতে পারত বলে মত দেন তিনি।

এ ধরনের গল্পনির্ভর ছবি নির্মাণে সাহস প্রয়োজন, যা রায়হান রাফি দেখিয়েছেন। জনপ্রিয়তার জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে ঝুঁকিপূর্ণ পথে হেঁটে এমন উদ্যোগ নেওয়াকে তিনি প্রশংসনীয় বলে মনে করেন। ভবিষ্যতে নির্মাতার আরও কাজের অপেক্ষায় থাকার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে দর্শকদের উদ্দেশে একটি পরামর্শও দিয়েছেন অপি করিম। তিনি বলেন, কোনো সিনেমা দেখার আগে টিজার-ট্রেইলার দেখে এবং কনটেন্ট সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে গেলে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

উল্লেখ্য, ‘প্রেশার কুকার’ ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া পাঁচটি সিনেমার একটি, যা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে।