ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দরজায়। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই পর্বে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের ভোট গ্রহণ হবে। কিন্তু নির্বাচনের সময় নাগাদ করলেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত হয়নি। এখনও ৬০ লাখ ভোটারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুনানির প্রক্রিয়া চলছে। এই সংশোধিত তালিকায় নাম উঠে যাওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ মিছিল ও আন্দোলন দেখা দিয়েছে।

গতকাল শনিবার গভীর রাতে নিবিড় সংশোধিত ভোটার তালিকা (এসআইআর)-এর বিবেচনাধীন ভোটারদের শুনানি শেষ হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন তৃতীয় দফায় কিছু ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রকাশ করেছে।

গতকাল রাতে কমিশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, তিন দফায় মোট ৩৭ লাখ ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। তবে বাকি ২৩ লাখ ভোটারের শুনানি এখনও বাকি।

এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচনের আগে বাকি শুনানি শেষ করা সম্ভব হবে কি না, সন্দেহ প্রকাশ করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। কারণ প্রথম দুই দফায় শুনানির পর ৪৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, যে পর্যন্ত সংশোধন হয়েছে, তারপর প্রক্রিয়া কি থেমে যাবে? এই ২৩ লাখ ভোটার কি ভোটাধিকার হারাবেন?

ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষুব্ধ। দলটি প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন বিভিন্ন ত্রুটির কারণে নির্বাচন কমিশন ৬০ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম শুনানির শর্তে বিবেচনায় রাখে।

গত বছরের নভেম্বরে এসআইআর শুরুর সময় রাজ্যে ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। খসড়া তালিকায় ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৮৯৯ জন বাদ পড়েন। এদের মধ্যে ছিল মৃত, ভুয়া, স্থানান্তরিত ও একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার।

এবার ৬০ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের শুনানি শুরু হয়। এরপরও ২৩ লাখ ভোটারের নাম শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, এ পর্যন্ত শুনানি হওয়া ভোটারদের নিয়ে কি নির্বাচন হবে? যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের জন্য উচ্চ আদালত আপিলের সুযোগ দিয়েছে। ১৯ জন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। বাদ পড়া ভোটাররা অনলাইন ও অফলাইনে এখানে আপিল করতে পারবেন।