সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় জ্বালানি তেলের সংকটে সপ্তাহখানেক ধরে আটশোর বেশি ভাড়াটে মোটরসাইকেল চালক বিপাকে পড়েছেন। তেলের অভাবে অধিকাংশ মোটরসাইকেল চলছে না, কিছু চললেও ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে।
উপজেলা দুটির কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাওরাঞ্চলের এই এলাকায় বছরের ছয় মাস নৌকায় যাতায়াত হয়, শুষ্ককালে হেঁটে বা মোটরসাইকেল-অটোরিকশায়। দুই উপজেলায় আটশোর বেশি ভাড়াটে মোটরসাইকেল চলে। ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকে তেলের সংকট শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাজারের খুচরা বিক্রেতারা তেল না পেয়ে দোকান বন্ধ রেখেছেন।
ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বীর দক্ষিণ পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রবু চান মিয়া (৪২) বলেন, ‘ঈদের পরের দিন থাইক্যা বাজারগুলাতে পেট্রল, অকটেন কুনুটাই পাওয়া যাইতাছে না। আমরা বারহাট্টা উপজেলার ইসলামপুর পাম্প থাইক্যা তেল আনি। অহন হেন গিয়া ঘণ্টার হর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াইয়া ২০০ টেহার পেট্রল কিনতে পারলেও নিয়মিত পাওয়া যায় না।’ তিনি জানান, পেট্রলের অভাবে মোটরসাইকেল চালাতে না পারায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে।
ধর্মপাশার বেখইজোড়া গ্রামের আরিফ (৩০) ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। তিনি বলেন, ‘আউজগা সহাল নয়টা থাইক্যা লাইনে দাঁড়াইয়া বেলা দুইটার দিকে পাশের কলমাকান্দা উপজেলার একটা পাম্প থাইক্যা ৫০০ টেহার পেট্রল কিনছি। তেলের সংকট চলতে থাকলে মোটরসাইকেল চালানি ছাইড়া দিয়া অন্য কিছু করতে অইব।’
ধর্মপাশার উত্তরপাড়া গ্রামের মাজহারুল (৩৩) বলেন, ‘দুই দিন আগে জামালগঞ্জের মান্নান ঘাট থাইক্যা দুই লিটার পেট্রল কিইনা কুনুরহমে ধর্মপাশা বাজার লাগাত আইছি। অহন তেলের অভাবে মোটরসাইকেল চালানি বন্ধ রাখছি।’
মধ্যনগরের মধ্যনগর হাওরিয়াপাড়া গ্রামের সমীরণ দাস (৩১) বলেন, ‘ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাইয়া দিন যায়। পেট্রল না থাওনে গাড়ি চালানি বন্ধ। এইবায় আর কত দিন চলব?’
মধ্যনগর বাজারের রয়েল মিয়া (৪০) বলেন, ধর্মপাশা থেকে মধ্যনগর পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ভাড়া অন্যান্য সময় ২০০ টাকা হলেও জ্বালানি তেল না পাওয়ার অজুহাতে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা রাখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধর্মপাশা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বারহাট্টা উপজেলার ইসলামপুর পাম্প থেকে আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে ৫০০ টাকার পেট্রল কিনেছি। আমি মোটরসাইকেলে পেট্রল ভরতে ভরতে তেলের জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত মোটরসাইকেলের লাইন ছিল।’
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ইসলামপুরের মেসার্স শুভ্র শান্তি ফিলিং স্টেশনের মালিক দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা ভৈরব ও ঢাকা ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করি। এখন এসব স্থানে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মিলছে না। তেলের অভাবে শুক্র ও শনিবার পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি। এই পাম্পে যে তেলের চাহিদা, তা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।’
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় কোনো ফিলিং স্টেশন নেই। উপজেলার পেট্রল ও অকটেনের খুচরা বিক্রেতারা যদি অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে রাখেন এবং দাম বেশি রাখার খবর পাওয়া যায়, তাহলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






