তেল পাচারের অভিযোগে তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড ও জরিমানার প্রতিবাদে ডাকা অনির্দিষ্টকালীন কর্মবিরতি ১০ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার করেছে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন। এর ফলে রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে।

আগের দিন রোববার সকাল আটটা থেকে শ্রমিকরা তাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রেখেছিল। প্রশাসনের আশ্বাস পাওয়ার পর রোববার সন্ধ্যায় তারা কর্মবিরতি তুলে নেয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল শনিবার। পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো (যমুনা অয়েল কোম্পানি) থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে নীলফামারী যাচ্ছিল একটি লরি। পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লরির কেবিন খোলে এবং চালক শ্রী কৃষ্ণ ও সহকারী রিফাত মেরামত করছিলেন। এ সময় নীলফামারী জেলার নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ ভূঁইয়া সেখানে থামেন। তিনি লরির কেবিনে দুটি জারকিনে ১০ লিটার পেট্রল ও ২ লিটার ডিজেল পান। অবৈধ তেল পাচারের অভিযোগে লরির ম্যানেজার একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণ ও সহকারী রিফাতকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং তিনজনকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এরপরই সকাল আটটা থেকে ট্যাংকলরি শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে।

রোববার বিকেলে পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদ হুসাইন শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তিনি শ্রমিকদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে সন্ধ্যা ছয়টায় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। আলোচনাসভায় পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওয়াদুদ, রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানসহ অন্যান্য শ্রমিকনেতা উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি। এ বিষয়ে আমাদের আস্থা আছে। সন্ধ্যার পর থেকে তেল উত্তোলন ও ট্যাংকলরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।’