মালদ্বীপের মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণী ম্যাচে এই ফলাফলের পর গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ভারত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে, আবার লাল-সবুজের দল রানার্সআপ হিসেবে শেষ চারে স্থান করে নিয়েছে।
ম্যাচের আগে সমীকরণ ছিল স্পষ্ট—বিজয়ী দল সেমিফাইনালে ভুটানের মুখোমুখি হবে, আর রানার্সআপকে লড়তে হবে কঠিন প্রতিপক্ষ নেপালের সঙ্গে। খেলা শুরু করেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। প্রথম মুহূর্তগুলোতে মিডফিল্ডার ফয়সাল গোলের দারুণ সুযোগ পান, কিন্তু ভারতের গোলরক্ষক দ্রুত পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসায় তাঁর শট গোলকিপারের শরীরে লেগে ফিরে আসে।
প্রথম ১৫ মিনিটে বাংলাদেশের আধিপত্য থাকলেও ১৭ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ভারত। কর্নার থেকে আসা বলে বক্সের ভেতর অরক্ষিত অবস্থায় থাকা বিশাল যাদব অসাধারণ হেডে বল জালে পাঠিয়ে ভারতকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল খাওয়ার পর মরিয়া হয়ে সমতার জন্য লড়াই শুরু করে বাংলাদেশ। এ সময় মাঠের উত্তেজনা ডাগআউট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ত্যাগ করতে হয় বাংলাদেশের প্রধান কোচ মার্ক কক্সকে।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত আট মিনিটের শেষ মুহূর্তে অবশেষে সমতা ফেরায় লাল-সবুজের দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার রোনান সুলিভানের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল বাতাসে থাকা অবস্থায় জালে পাঠান ডিফেন্ডার আবদুল রিয়াদ ফাহিম। ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় উভয় দল। বিরতির পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যায়, কিন্তু স্কোরলাইনে আর কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এর আগে পাকিস্তান বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। বাংলাদেশ তাদের ২-০ গোলে এবং ভারত ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করে। প্রথম ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে দুই দলই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। আজকের ড্র-এর পর উভয় দলের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৪। তবে গোল ব্যবধানে (+৩) এগিয়ে থাকায় ভারত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং বাংলাদেশ (+২) রানার্সআপ হয়েছে।






