যে বস্ত্র বুনেছিলে, তাও আজ খণ্ড খণ্ড হয়ে উড়ে যায়অনিদ্রার দিকে, সমুদ্রলাঞ্ছিত হাওয়ায়সেই শব্দ স্নায়ুতে রয়েছে গেঁথেবাঁশি ও বিলাপে, তমসায়তোমার উলঙ্গ প্রতিবিম্ব তুমি দেখেছিলেঢেউয়ে, ভেঙে যেতে...করুণায়
বুকের ভিতরে চাঁদ নিয়ে শুয়ে পড়ি,নিদ্রা নেমে আসে, সমাধির অযোগ্য সেই শবফের উঠে বসে, তাকে ঘিরে যা কিছু সম্ভব,বৃত্তাকার নাচ, ছাইয়ের আগুনে ফেরা, রণপায়েচকিতে পাহাড়ে ওঠা, দুই হাতে কুয়াশা সরায়েতুমি দেখো, সব ঝরাপাতা ফিরে গেল গাছে;তোমার নীরব ঠোঁটে চুম্বনের দাগ লেগে আছেস্খলনের চিহ্ন মুছে, মৃতের রক্ষক এই চাঁদ আরআমি; ঘুমের ওপর নড়ে ছায়া, দূরত্বে তোমার...
এইবার যেতে পারো তুমি, বনের মর্মে, মেঘেরাত্রিগামী নদীটির বাঁক ঘেঁষে দাঁড়িয়েছি বহুবার,অপেক্ষা করেছি ছাইয়ের পাহাড় কখনআগুনের ভ্রমে ঢুকে যায়, কখন সে ফিরে আসেশরীরের রূপে! তখন দেখেছি তুমি আসো,নাকি আসো নাই? অসম্পূর্ণ সঙ্গমের পরযেমন প্রেমিক নিভে যাওয়া লণ্ঠনের নীরবতা নিয়েনিজেকে জিজ্ঞাসা করে, দহনবাহিত এই দেহেজাগিয়েছ কাকে? ‘আরেকবার চাই’ বলেআমি তাকাই তোমার দিকে, ওহো কম্পিত পাহাড়,সমুদ্রহাওয়া, মুছে যাচ্ছে দেখো সূর্য ও পৃথিবীর টান;এই শেষবার, জেনো, সব স্পর্শ বাতাসে খোদাই করেএই দেহ আজ শূন্যতাসঙ্কুল; মৃতদের গানে ভর দিয়েআজ তাই প্রস্থান চাই সূর্যাস্তের আগে
এই রাস্তা চলে গেছে স্বপ্নসম্ভব সন্ধ্যার দিকে, যাবে নাকি?ঘুমের ভিতর থেকে অশ্রুত স্বর আসে, চলো জাগরণে যাই,চলো, বুনোফুলের গন্ধ জড়িয়ে স্নায়ুর কিনারে দাঁড়াইচুম্বনে আড়ষ্ট গ্রীবা উহ্য থাক, অনিদ্রাপীড়িত রাত রাখি দূরে,রৌদ্রপ্লাবিত হাওয়ায়;যাবে নাকি? এই রক্তের ক্রন্দন, সীমাবদ্ধ ভূমি ছেড়ে?এসো, দ্যাখো, পাখি উড়ে যায় ডুবন্ত সূর্যের দিকে
কাউকে বলিনি, সরে আসি শর্করা থেকে। ছাই ঝেড়েহাঁটছি আবার। কেননা অগ্নিকাণ্ড শেষ হলো।কেননা, আবার উঠছে জেগে ক্লোরোফিল,মেঘের মহিমাসহ, বাষ্পাকুল হ্রদ ঘিরে।হাওয়া থেমে আছে দূরের পাহাড়ে;তবু এই রহস্যে বর্তুল পথে আসে ঘুমন্ত উদ্ভিদের ঘ্রাণআর ইন্দ্রিয়পীড়িত রাত্রির পতঙ্গ এলোমেলো ওড়ে।কাউকে বলিনি, কিচ্ছু না, কোনো সাক্ষ্য পাবে না,সন্ধ্যার অগ্নিস্তম্ভ মুছে, শস্যবীজ, পানপাত্র, ওষ্ঠের কম্পন...রাত্রির গর্ভে নয়, লুণ্ঠিত অপরাহ্ণে কিংবা সূর্যাস্তগামীরাস্তায়ও নয়, মৃতদের কাছে সব গচ্ছিত রেখেডুব দেবো দগ্ধনীল ট্রমার ভিতরে।...






