সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের পাঁচটি এবং জেলা শহর মাইজদীর তিনটি পেট্রলপাম্পে অকটেনের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আবু নাছের। এতে তাঁকে পথ পাড়ি দিতে হয়েছে প্রায় ২৫ কিলোমিটার। শেষে জেলা শহরের একটি পেট্রলপাম্পে প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পেলেন মাত্র ২০০ টাকার। এই তেল দিয়ে বড়জোর ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার যেতে পারবেন। তাতে দিন শেষে কাজের হিসাব দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানালেন তিনি।
আজ সোমবার সকালে জেলা শহর মাইজদীর পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার আবদুল হক ফিলিং স্টেশনে এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন বেগমগঞ্জের অনন্তপুর এলাকার বাসিন্দা আবু নাছের। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দুই দিন ধরে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী ও আশপাশের এলাকার কোনো পেট্রলপাম্পে অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তাঁর মতো মোটরসাইকেলচালকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
আবু নাছেরের বক্তব্যের সূত্র ধরে আজ সকালে জেলা শহর মাইজদীর পুরোনো বাসস্ট্যান্ড, দত্তবাড়ি, দত্তেরহাট, বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পশ্চিম বাজার, চৌমুহনী চৌরাস্তা, চৌমুহনী পূর্ব বাজার, সেতুভাঙ্গা বাজার ও জমিদারহাট এলাকার ৯টি পেট্রলপাম্প ঘুরে ৮টিতেই অকটেন কিংবা পেট্রল পাওয়া যায়নি। শুধু জেলা শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার মেসার্স আবদুল হক ফিলিং স্টেশনে তেল পাওয়া যাচ্ছে। তা–ও সেখানে তেল দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা করে। পাম্পটির সামনে এবং পাশের হাকিম কোয়ার্টার সড়কে কয়েক শ মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। কেউ দাঁড়িয়ে আছেন এক ঘণ্টা। কেউ তারও বেশি। একটি করে মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার কারণে সময়ও লাগছে বেশি।
পাম্পটির সামনে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকায় কয়েকজন মোটরসাইকেলচালক বলেন, এই পাম্পে ২০০ টাকার হলেও তেল পাওয়া যাচ্ছে, গ্রামের হাটবাজারের খুচরা দোকানগুলোতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পেট্রল-অকটেন বিক্রি বন্ধ। এতে ঈদে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাওয়াসহ জরুরি কাজকর্ম সারতে গিয়ে মানুষজন চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের একটি পেট্রলপাম্পের ব্যবস্থাপক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সরকার পেট্রল-অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক বললেও বাস্তব চিত্র তার উল্টো। ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। তবে ডিজেলের সরবরাহ সেই তুলনায় খানিকটা ভালো। এ কারণে ডিজেলের তেমন সংকট নেই।
চৌমুহনী পশ্চিম বাজার এলাকার পেট্রলপাম্পের সামনে রশি টাঙানো। সামনে এগোতেই পাম্পের ব্যবস্থাপক মো. হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দুই দিন ধরে তাঁদের পাম্পে তেল নেই। ঈদের আগের দিন তাঁরা চট্টগ্রামের ডিপো থেকে চাহিদার অর্ধেক তেল সরবরাহ পেয়েছেন। সেটি ঈদের রাতেই শেষ হয়ে গেছে। গত দুই দিন ডিপো থেকে তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে তেলের লরি ডিপোতে গিয়ে তেল নিতে পারেনি। সকালে খবর পেয়েছেন আজ তেল দেওয়া হবে। তাই সন্ধ্যা নাগাদ তেল এসে পৌঁছালে আবার পাম্প চালু করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে প্রতিদিনই পেট্রলপাম্পগুলোর মজুত, সর্বশেষ সরবরাহ করা তেলের হিসাব নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে অবহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির আলোকে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে ডিপোগুলোতে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করা যায়, সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।






