জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার হলের ৪১৩ নম্বর কক্ষ থেকে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়া থানা–পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজন মরদেহটি উদ্ধার করেন। নিহত অরুপ রতন (কনিস্ক মাঝি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁর গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের চাষারা এলাকায়।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, হলের কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা আগে ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল প্রশাসন ও নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে প্রশাসন। ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাসায় চলে গেলেও হলে ছিলেন অরুপ রতন। আজ সহপাঠীরা মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তাঁরা অরুপের কক্ষের সামনে আসেন। কিন্তু কক্ষটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। এরপর হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী অরুপকে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেলে কক্ষের জানালার কাচ ভেঙে দেখতে পান, তাঁর মরদেহ ঝুলছে। এরপর আশুলিয়া থানার পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শেরে বাংলা হলের চারতলায় ৪১৩ নম্বর কক্ষের সামনে শিক্ষার্থীদের ভিড়। অনেকে অরুপ রতনের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। মরদেহটি ছাদের সঙ্গে লাগানো বৈদ্যুতিক পাখা ঝোলানোর স্থানে কালো রঙের দড়িতে ঝুলছে। ঠিক তাঁর পাশে একটি টেবিল রয়েছে টেবিলে খাতা, দুটি মুঠোফোন রয়েছে। টেবিলের পাশে একটি চেয়ার ও কিছু জামাকাপড় পড়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে নিহত অরুপের বন্ধু মো. হিমেল বলেন, ‘হলে যখন প্রথম দিন উঠি, আমি আর আমার বন্ধু একসঙ্গে উঠেছিলাম। গণরুম করেছি একসঙ্গে। কখনো ঝামেলা হয়নি। সে খুবই ভালো মনের মানুষ। এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, আমরা কখনো কল্পনাও করিনি।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হলে আসি এবং পুলিশকে খবর দিই। পরে পুলিশ এলে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা, হল প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা ওই ছাত্রের রুমে গিয়ে মরদেহ নামানোর ব্যবস্থা করি। তাঁর বাসায় খবর দেওয়া হয়েছে, তাঁরা ইতিমধ্যে রওনা দিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে যেসব আলামত পেয়েছি, তা থেকে ধারণা করছি, ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।’






