চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে ডিজেল নিতে অপেক্ষমাণ যানবাহনের দীর্ঘ সারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একাংশে তীব্র যানজট তৈরি করেছে। আজ শনিবার বেলা দুইটার পর শুরু হওয়া এই যানজট চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেট থেকে ভাটিয়ারী পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি তেলের সংকট দূর না হওয়ায় ঈদযাত্রায় এমন যানজট আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে যানজট নিয়ন্ত্রণ হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে। হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনের সামনে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এই যানজট স্বাভাবিক করতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বাড়বে ১৭ মার্চ থেকে। এর আগে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ঈদে ঘরমুখী মানুষের দীর্ঘ সময় ধরে যানজটের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেট থেকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিস্কুট ফ্যাক্টরি সড়ক এলাকা পর্যন্ত মোট সাতটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। সব কটি স্টেশনের সামনে ডিজেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ করা গেছে। এ কারণে ঢাকামুখী দুই লাইন সড়কের এক লেন বন্ধ হয়ে যায়। এক লেন দিয়ে চলাচল করা গাড়ির ধীরগতির কারণে যানজট বেড়ে গেছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশের দৈর্ঘ্য ৩৮ কিলোমিটার। মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে ফিলিং স্টেশন রয়েছে ১২টি।
ভাটিয়ারী বাজার এলাকায় যানজটে আটকা পড়া ঢাকামুখী সিডিএম নামের বাসের চালকের সহকারী সাইফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, চট্টগ্রামের সিটি গেটের পর তাঁরা যানজটের কবলে পড়েন। ধীরে চলতে চলতে ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তাঁর ৪০ মিনিট সময় লেগেছে। বাসে থাকা যাত্রীদের খুব কষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ঈদে যানজটে যাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।
ভাটিয়ারী বাজার এলাকায় কথা হয় বারআউলিয়া থানার সার্জেন্ট জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বেলা ২টার পর থেকে প্রতিদিন মহাসড়কের কোনো না কোনো স্থানে যানজট লেগে যাচ্ছে। মূলত জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির কারণে এই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তাঁরা চেষ্টা করছেন যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে।
ঈদযাত্রায় যানজটের আশঙ্কা
জ্বালানি–সংকট চলতে থাকলে মহাসড়কে ঈদযাত্রায় যানজট বাড়বে। পরিবহনশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগর কিংবা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গাড়ি বের হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি ভরে নেয়। এরপর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকা কিংবা অন্যান্য গন্তব্যে যায়।
উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের চারালকান্দি এলাকায় সোনারগাঁ ফিলিং স্টেশনের সামনে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা লরির চালক মো. সোহাগ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে হলে বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফিলিং স্টেশনে দাঁড়িয়ে ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তাঁরা ১০ থেকে ২০ লিটার জ্বালানি পান। তাঁদের চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে ১৩৫ থেকে ১৪০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়।
অপর চালক জিল্লুর রহমান বলেন, তাঁদের একাধিক ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে আট ঘণ্টার পথ তিন দিন লেগে যাচ্ছে। কখনো কখনো তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছালে তেল নেই শুনতে হয়। ফলে পরের স্টেশনে গিয়ে আবার ধরনা ধরতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে ঈদে যানজটের সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়বে মানুষ।
ভাটিয়ারী বাজার এলাকায় মিক্কো ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. জাফর মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তাঁর পাম্পে দুই দিনে ১৮ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি হয়। কিন্তু তাঁকে দুদিনে তেল সরবরাহ করছে সাড়ে চার হাজার লিটার। ফলে গাড়িভেদে ১০ থেকে ২০ লিটার করে তেল বিক্রি করছেন তাঁরা। মোটরসাইকেলপ্রতি অকটেন দিচ্ছেন ২ লিটার, ব্যক্তিগত কারে ৫ লিটার। পর্যাপ্ত সরবরাহ হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক তেল দিতে হচ্ছে তাদের।
বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ফিলিং স্টেশন পাম্পগুলো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে গাড়িগুলো সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কোনোটার জ্বালানি শেষ আবার কোনোটা জ্বালানি আরও বাড়ানোর জন্য অপেক্ষা করছে। ফলে ফিলিং স্টেশন এলাকায় গাড়ি ধীরে চলছে। এ অবস্থা যদি চলতে থাকে ঈদে ঘরমুখী মানুষের যানবাহনের চাপ বাড়লে এসব এলাকায় যানজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মহাসড়কে যানজট হওয়ার আর কোনো কারণ নেই। যদি এ অবস্থা চলতে থাকে যানজট স্বাভাবিক করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানান।






