জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জয়পুরহাট মহাবিদ্যালয় (শহীদ জিয়া কলেজ) এর চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের ছাদ ঢালাই উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণে এ নির্মাণ কাজের ছাদ ঢালাই উদ্বোধন করেন জয়পুরহাট মহাবিদ্যালয় (শহীদ জিয়া কলেজ) এর গভর্নিং বডির সভাপতি ও জয়পুরহাট জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তাদুল হক আদনান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ সওদাগর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক (পরিসংখ্যান) আশরাফুল আলম, সহকারী অধ্যাপক (ইতিহাস) ও শিক্ষক প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, প্রভাষক (পদার্থবিজ্ঞান) জাহাঙ্গীর আলম, প্রভাষক (হিসাববিজ্ঞান) আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক (ফিন্যান্স) শাহিন আলম, প্রভাষক (বাংলা) মেশকাতসহ কলেজের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
জানা যায়, প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনটি নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উল্লেখ্য, জয়পুরহাটের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম অধ্যক্ষ মোঃ শামসুল হক এর উদ্যোগে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ ও দূরদর্শিতার ফলেই জয়পুরহাট শহরের বুকে প্রতিষ্ঠানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, ১৯৮০-এর দশকে জয়পুরহাট অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে মরহুম অধ্যক্ষ মোঃ শামসুল হক ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় কলেজটি প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে একটি স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। পরবর্তীতে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানী, বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামানুসারে কলেজটির নামকরণ করা হয় শহীদ জিয়া কলেজ।
এ বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও জয়পুরহাট জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তাদুল হক আদনান মুক্তকণ্ঠকে জানান, “এই কলেজটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি জয়পুরহাটবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের প্রতিফলন। আমার শ্রদ্ধেয় বাবা মরহুম অধ্যক্ষ মোঃ শামসুল হক জয়পুরহাটের শিক্ষার উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। বহু কষ্ট, ত্যাগ ও মানুষের সহযোগিতায় এই কলেজ আজ একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই ভবিষ্যতে এই কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নেওয়া হোক।”
তিনি আরও বলেন, কলেজের চলমান একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।






