বগুড়ার প্রবীণ বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর তালুকদার হেনাকে ঘিরে তার মেয়ের একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘ ওই পোস্টে তিনি বাবার কয়েক দশকের রাজনৈতিক জীবন, আন্দোলন সংগ্রাম এবং ব্যক্তিগত ত্যাগের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন।

তিনি লেখেন

“আমি কখনোই চাইনি তুমি রাজনীতি কন্টিনিউ করো। আমি বারবার বলেছি এটা আর খালেদা জিয়ার সেই বিএনপি না, এখানে তুমি মান সম্মান নিয়ে টিকে থাকতে পারবে না।”

পোস্টে তিনি দাবি করেন, তার বাবা বিএনপির রাজনীতির জন্য পারিবারিক সম্পদও ব্যয় করেছেন।

“আমার জমিদার দাদার একের পর এক জমি বিক্রি করে তুমি পার্টির পেছনে ঢেলেছ, অথচ মাস শেষে আমাদের বাসায় চাল আসত নানুর বাসা থেকে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বাবা একাধিকবার কারাবরণ করেছেন এবং নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

“জেল জুলুম দেখেছি কিন্তু তোমাকে কখনো মাথা নিচু করতে দেখিনি।”

স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় হওয়ায় দলীয় কিছু নেতার ঈর্ষার শিকার হয়েছেন তার বাবা। সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে অপমান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এই ঘটনার পর তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে সরাসরি আবেদন জানান।

“আমি Tarique Rahman এর কাছে অনুরোধ করব আমার আব্বাকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে সসম্মানে অব্যাহতি দেওয়া হোক।”

আরও একটি আবেগঘন অংশে তিনি লেখেন

“আজ আপনার আম্মা বেঁচে থাকলে আমার বাবাকে এভাবে অপমানিত হতে হত না। দলীয় প্রধান হিসেবে আমি আপনার কাছে বিচার দাবি করছি।”

“আমি কখনোই চাইনি তুমি রাজনীতি কন্টিনিউ করো। এটা আর খালেদা জিয়ার সেই বিএনপি না।”

“আমার জমিদার দাদার জমি বিক্রি করে তুমি পার্টির পেছনে ঢেলেছ, অথচ মাস শেষে আমাদের বাসায় চাল আসত নানুর বাসা থেকে।”

“জেল জুলুম দেখেছি, কিন্তু তোমাকে কখনো মাথা নিচু করতে দেখিনি।”

“তোমাকে ধরার সাথে সাথেই অনেক নেতা আন্দোলন ছেড়ে ডুবকি দিয়েছিল।”

“দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তুমি কখনো নির্বাচন করোনি, নিশ্চিত বিজয় জেনেও না।”

“তোমার হার্টের অবস্থা খারাপ জেনেও সবাই তোমাকে প্রোগ্রামে ডেকেছে।”

“যে মানুষ তার জীবন যৌবন অর্থ সম্পদ সবকিছু পার্টির পেছনে দিয়েছে, তাকে আজ অপমানিত হতে হল।”

“এরা বুঝতে পারেনা কেন তোমার কোনো পদ না থাকলেও এত মানুষ তোমার কাছে যায়।”

“আমি Tarique Rahman এর কাছে অনুরোধ করব আমার আব্বাকে সসম্মানে অব্যাহতি দেওয়া হোক।”

“আজ আপনার আম্মা বেঁচে থাকলে আমার বাবাকে এভাবে অপমানিত হতে হত না।”

পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রবীণ এই নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে সহানুভূতি প্রকাশ করছেন।

উল্লেখ্য, আলী আজগর তালুকদার হেনা বগুড়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এবং অতীতে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।