রাজধানী ঢাকায় আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে বায়ুর মান ছিল ২৭০। এ স্কোর নিয়ে বিশ্বের ১২৩ নগরীর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। বায়ুর এ মানকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ সময় নগরীর ঠিক পাশের জনপদ সাভারের বায়ুর মান ছিল ৬৪০। বায়ুর মান ৩০০ পার হলেই তাকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলা হয়।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এ তথ্য দিয়েছে। এখানে বিশ্বের নগরীগুলোর দূষণ পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক তথ্য তুলে ধরা হয়।

এই সেই সাভার, যেখানকার দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২৫ সালে এই উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষিত সাভারে বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারী কিছু কাজ পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়। নিষিদ্ধ বিষয়গুলো হলো—সেপ্টেম্বর (২০২৫) থেকে সাভার উপজেলার অন্তর্গত সব ধরনের ইটভাটায় (টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া) ইট পোড়ানোসহ ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালনা, উন্মুক্ত অবস্থায় কঠিন বর্জ্য পোড়ানো এবং বায়ুদূষণ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে—এমন সব ধরনের নতুন শিল্পকারখানার অনুকূলে অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া।

কিন্তু সেই ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ সেই সাভারের দূষণ তো কমেইনি; বরং বেড়েছে।কেন এমন হলো? প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও খ্যাতনামা বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাভারকে “ডিগ্রেড এয়ারশেড” ঘোষণার পর আমরা একে শুভ উদ্যোগ বলেছিলাম। কিন্তু কথা বলার চেয়ে কাজটি করে দেখানোর পরামর্শও দিয়েছিলাম। বাস্তবে গত দেড় বছরে পরিবেশ উন্নয়নে অনেক কথা হয়েছে। কাজ হয়েছে কম।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্তি সচিব মো. সাইদুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বায়ুদূষণ পরিস্থিতি যে এমন—তা জানাতেই সব অংশীজনকে সজাগ করার জন্য ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বায়ুর মানের খুব উন্নতি হয়নি। এখন সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাভার উপজেলায় ১০৬টি ইটভাটা আছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি ইটভাটায় পরিবেশবান্ধব উপায়ে ইট তৈরি করা হয়। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুম। এ সময় উত্তর থেকে দক্ষিণে বাতাস প্রবাহিত হয়। ঢাকা দক্ষিণে হওয়ায় সাভারের দূষণ ঢাকা পর্যন্ত চলে আসে। সে কারণে ঢাকার দূষণও বেড়ে যায়। এ কারণে সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয় বলে তখন সরকাররে পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

তারপরও দূষণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মোহাম্মদ জিয়াউল হক আজ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণার পরপরই তিন মাস অর্থাৎ ডিসেম্বর পর্যন্ত মানহীন ইটভাটা বন্ধ ছিল। তারপর অবশ্য অনেকগুলো চালু হয়েছে। এটা ঠিক, সবকিছু যথাযথভাবে মেনে চলা যায়নি। তবে সাভারের এই ভয়ানক দূষণের পেছনে ইটভাটা ছাড়াও অন্য কারণ থাকতে পারে। আমরা এটি এখন খুঁজে দেখার চেষ্টা করব।’