নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি।

নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী আইভীকে আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আইভীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট ১০টি মামলা আছে। গত বৃহস্পতিবার পাঁচটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। এ ছাড়া আইভী আরও পাঁচটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তা স্থগিত করা হয়। বর্তমানে তা আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষা আছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মাসুম বিল্লাহ্ মুক্তকণ্ঠকে জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাতজনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে নাম না থাকলেও আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘তদন্তে আইভীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেই কারণে তাঁকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আদালতে করা হয়েছে।

আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন মুক্তকণ্ঠকে জানান, আইভীকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে।

গত বছরের ৯ মে ভোরে সাড়ে ৬টার সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ওই দিন সকাল ১০টায় তাঁকে গত বছরের ২০ জুলাই পোশাক কর্মী মিনারুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এর পর থেকে আইভী কাশিমপুর মহিলা কারাগারে বন্দী আছেন।