তৈরি পোশাকের পাইকারি বাজার ঢাকার কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লিতে চুরি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল বুধবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর এলাকায় শহীদ দেলোয়ার হোসেন সড়কে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির কার্যালয়ের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন তাঁরা এই দাবি জানান।
.সংবাদ সম্মেলনে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের পোশাকপল্লিতে ছোট-বড় তিন শতাধিক মার্কেট রয়েছে। ওই সব মার্কেটে ১০ হাজার শোরুম ও প্রায় ৫ হাজার কারখানা রয়েছে। সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ নারী ও পুরুষ শ্রমিক কাজ করে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কেরানীগঞ্জের অর্থনীতি এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে থাকে।’
পবিত্র রমজান মাস ব্যবসায়ীদের জন্য অন্যতম বড় মৌসুম উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো পাইকার মালামাল কেনার জন্য টাকাপয়সা নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে পোশাকপল্লিতে আসেন। তবে এখানে আসা ও ফেরার পথে পোশাকপল্লি এলাকা ও বুড়িগঙ্গা নদী এলাকায় প্রায়ই পাইকাররা ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ ছাড়া এখানে কর্মরত শ্রমিকেরাও রাতে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে দিবাগত রাত ও ভোরবেলা ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা দেখিনি। এ অবস্থায় আমাদের পোশাকপল্লিতে আসতে পাইকারেরা আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা এ দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই।’
.আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে পোশাকপল্লি এলাকা ও বুড়িগঙ্গা নদীতে চলাচলকারী ব্যবসায়ী এবং জনসাধারণের জান-মাল রক্ষার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা জরুরি। আশা করছি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কানন শিকদার, কোষাধ্যক্ষ পাভেল মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
.কেরানীগঞ্জে পোশাকশিল্পে জমে উঠেছে ঈদের বেচাবিক্রি, লক্ষ্য ৭ হাজার কোটি টাকা.এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, পোশাকপল্লি এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া পোশাকপল্লির গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল জোরদার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






