ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে জীবনকে গতিশীল, নিরাপদ ও সহজ করার অন্যতম মাধ্যম ব্যাংক কার্ড। গ্রাহকদের সহজ ও ঝামেলাহীন লেনদেনে অভ্যস্ত করতে মুক্তকণ্ঠ ডটকম তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করেছে ‘ব্যাংক কার্ড আয়োজন’। এতে অংশ নিয়েছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি। আয়োজন ঘিরে প্রত্যাশা ও নিজেদের আধুনিক কার্ড সেবার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন পূবালী ব্যাংকের কার্ড বিজনেস ডিভিশনের প্রধান এন এম ফিরোজ কামাল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক মাহমুদ নিজামী।
.মুক্তকণ্ঠ: মুক্তকণ্ঠ ডটকমের উদ্যোগে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ব্যাংক কার্ড আয়োজন ২০২৬’। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
ফিরোজ কামাল: এ আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই, এর মাধ্যমে মুক্তকণ্ঠের বিশাল পাঠকশ্রেণির কাছে পূবালী ব্যাংকের কার্ডের ফিচার ও সুযোগ-সুবিধাগুলো পৌঁছে যাক। আমাদের প্রত্যাশা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের এই আয়োজন থেকেই গ্রাহকেরা বিভিন্ন কার্ডসেবা উপভোগ করতে আবেদন করুক।
মুক্তকণ্ঠ: বর্তমানে আপনাদের ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডগুলোতে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ কী কী সুবিধা বা রিওয়ার্ড অফার রয়েছে?
ফিরোজ কামাল: আমাদের ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড দেশে ও দেশের বাইরে ব্যবহার করা যায়। ভিসা-মাস্টার কার্ডের মতো গ্লোবাল স্কিমের পাশাপাশি আমরা দেশীয় স্কিম ‘টাকাপে’ ইস্যু করি। বর্তমানে ১ লাখ ১০ হাজার ‘টাকাপে’ কার্ড ইস্যু করেছি। আমাদের ক্রেডিট কার্ডের বৈশিষ্ট্য হলো ‘সিঙ্গেল প্লাস্টিক’ ও ‘সিঙ্গেল কারেন্সি’ সুবিধা। অর্থাৎ একটি মাত্র কার্ডেই বিশ্বজুড়ে লেনদেন ও এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ অ্যাক্সেস সম্ভব। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লেনদেনের বিলও পরিশোধ করা যায় সিঙ্গেল কারেন্সিতে। এ ছাড়া ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ বাফেট সুবিধা, হাজারের বেশি মার্চেন্টে ইএমআই, ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার রয়েছে। কার্ডের ব্যবহার সহজ করতে আমরা দেশজুড়ে ২৭ হাজারের বেশি পস (POS) মেশিন স্থাপন করেছি, যা অন্যান্য ব্যাংকের গ্রাহকদেরও কার্ড ব্যবহারের সুযোগ এনে দিচ্ছে।
.মুক্তকণ্ঠ: অনলাইন কেনাকাটা ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আপনাদের কার্ডগুলো গ্রাহকের কতটা আস্থা অর্জন করতে পারছে?
ফিরোজ কামাল: ‘একসঙ্গে সব জায়গায়, সবকিছু’ হলো বর্তমান যুগের চাহিদা। এখন অনলাইনে লেনদেন বাড়ছে। বিদেশে কার্ডের ব্যবহার বেড়ে গেছে বহুগুণ। এ ক্ষেত্রে আমাদের কার্ডহোল্ডাররা আস্থার সঙ্গে অনলাইনে নানা সেবা প্রাপ্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বিল পরিশোধ করছেন।
মুক্তকণ্ঠ: গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তায় আপনাদের ব্যাংকের কার্ডে কোন ধরনের শক্তিশালী প্রযুক্তি বা সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে?
.ফিরোজ কামাল: পূবালী ব্যাংকের কার্ডগুলোতে আছে ইএমভি চিপসুবিধা (EMV Chip), যা কার্ডের ডেটাকে রাখে সুরক্ষিত। এর সঙ্গে আমরা ‘গ্রিন পিন’ ইস্যু করে থাকি, যা গ্রাহকের ফোনে পাঠানো হয় শুধু কার্ড ‘অ্যাক্টিভেট’ করার সময়। পিন ও ওটিপির সমন্বয়ে করা লেনদেন গ্রাহককে করেছে নিশ্চিন্ত। আইএসও ও পিসিআইডিএসএস (PCIDSS) সার্টিফায়েড থাকায় পূবালী ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করা যায় সম্পূর্ণ নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে।
.মুক্তকণ্ঠ: পূবালী ব্যাংক সম্প্রতি কার্ডসেবায় ‘কন্ট্যাক্টলেস’ প্রযুক্তি ও এনএফসি সুবিধা যুক্ত করেছে। একজন সাধারণ গ্রাহক কেনাকাটার সময় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেনের সুবিধা পাচ্ছেন?
ফিরোজ কামাল: কন্ট্যাক্টলেস প্রযুক্তি ও এনএফসি সুবিধার মাধ্যমে একজন গ্রাহক পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কেনাকাটা খুব সহজে ট্যাপ করে সম্পন্ন করতে পারছেন, যেখানে তাঁর কার্ডের পিন দিতে হবে না। এটি গ্রাহকের মূল্যবান সময় সাশ্রয় করা ছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
মুক্তকণ্ঠ: আপনাদের ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে ‘বাই নাও পে লেটার (বিএনপিএল)’ বা ইএমআই সুবিধা কতটি পার্টনার আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের বড় অঙ্কের কেনাকাটায় এ সুবিধা কতটা সাশ্রয়ী ভূমিকা রাখছে?
ফিরোজ কামাল: পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে এ মুহূর্তে আড়াই শর বেশি শূন্য (০) শতাংশ ইএমআই বা ইন্সট্যান্ট ইএমআই মার্চেন্ট আছে। যেখানে ইলেকট্রনিকস, আসবাব, ট্রাভেল এজেন্সি, মুঠোফোন ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মার্চেন্টই চুক্তিবদ্ধ। এর মাধ্যমে পূবালী ব্যাংকের গ্রাহকেরা সাশ্রয়ীভাবে যেকোনো পছন্দের ও প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ইএমআই–সুবিধার মাধ্যমে সহজে সম্পন্ন করে নিতে পারছেন।
.মুক্তকণ্ঠ: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, যেখানে আপনাদের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেখানে ডিজিটাল ব্যাংকিং বা কার্ডের ব্যবহার বাড়াতে ‘পাই’ (পূবালী ইন্সট্যান্ট ইন্টারনেট) ব্যাংকিং অ্যাপের সঙ্গে কার্ডের ইন্টিগ্রেশন গ্রাহকদের জীবনকে কতটা সহজ করেছে?
ফিরোজ কামাল: আমাদের ‘পাই’ ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে তিন মিনিটে অ্যাকাউন্ট ওপেন করে ইন্সট্যান্ট ডেবিট কার্ড পাওয়া যায়। আর ক্রেডিট কার্ডের জন্য অনলাইনেও আবেদন করা যায়। এত সহজে গ্রাহকেরা কার্ড গ্রহণ করার পর পাই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজেই ‘ব্যাংক টু ব্যাংক’ ফান্ড ট্রান্সফার ও ‘ব্যাংক টু এমএফএস’ ফান্ড ট্রান্সফার করতে পারছেন। এ ছাড়া কিউআর কোড স্ক্যান করে বিভিন্ন মার্চেন্ট শপে কেনাকাটার পেমেন্ট, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট বিল এবং মোবাইল রিচার্জের মতো সুবিধাসহ ২৪ ঘণ্টা ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন।
.মুক্তকণ্ঠ: গ্রাহকদের সচেতন করতে ও স্মার্ট লেনদেনে উৎসাহ দিতে মুক্তকণ্ঠ ডটকমের ‘অনলাইন ব্যাংক কার্ড আয়োজন’ কেমন ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন?
ফিরোজ কামাল: ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ‘ব্যাংক কার্ড আয়োজন’ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর উদ্যোগের মাধ্যমে কার্ড প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষ আরও সচেতন হচ্ছেন। ফলে ক্যাশলেস লেনদেনভিত্তিক পণ্য—বিশেষ করে ব্যাংক কার্ডের জনপ্রিয়তা ও ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
মুক্তকণ্ঠ: আপনাকে ধন্যবাদ।
ফিরোজ কামাল: আপনাকেও ধন্যবাদ।






