হাদিসে জিবরাইল: এক হাদিসে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ পাঠ
এই একটি হাদিস ধর্মের যাবতীয় বিধান নিজের ভেতর ধারণ করেছে। সুরা ফাতিহা যেমন ‘উম্মুল কুরআন’, ঠিক তেমনি হাদিসে জিবরাইলকে বলা যেতে পারে ‘উম্মুস সুন্নাহ’।
এই একটি হাদিস ধর্মের যাবতীয় বিধান নিজের ভেতর ধারণ করেছে। সুরা ফাতিহা যেমন ‘উম্মুল কুরআন’, ঠিক তেমনি হাদিসে জিবরাইলকে বলা যেতে পারে ‘উম্মুস সুন্নাহ’।
ইসলামে বুদ্ধি হলো সেই আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিবেক, যা মানুষকে ক্ষণস্থায়িত্বের মায়া কাটিয়ে চিরন্তন সত্য ও অনন্ত জীবনের প্রস্তুতিতে পরিচালিত করে।
কীভাবে একটি সাধারণ যাত্রাকে বরকতময়, নিরাপদ ও মহা সওয়াবের ইবাদতে রূপান্তর করা যায়, নবীজি নিজের সুন্নতের মাধ্যমে তার রূপরেখা দিয়ে গেছেন।
এই দশজনের জীবনযাত্রা একরকম ছিল না। দুনিয়ার চোখে তাঁদের অনেকেই ছিলেন সাধারণ নারী। কিন্তু আসমানে তাঁদের মর্যাদা ছিল অসাধারণ।
শাসন ছাড়া সন্তানের নীতিবোধ তৈরি হয় না, আবার ভালোবাসাহীন শাসন শিশুর আত্মাকে ভেঙে দেয়। তাঁরা নিয়ম তৈরি করেন স্নেহের ভাষায়, ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন পরম মমতায়।
আমাদের পূর্বসূরি মনীষীরা খুব ভালো করে উপলব্ধি করেছিলেন যে অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করতে হলে মুখের দরজায় কড়া পাহারা বসাতে হবে।
মা-ই যদি সন্তানের সঙ্গে মিথ্যা বলেন, প্রতারণামূলক আর্থিক দেনা তৈরি করেন কিংবা মানসিক কষ্টের কারণ হন—তখন সন্তানের মনের অবস্থা কেমন হয়?
নিজের দিক থেকে শতভাগ নিষ্পাপ থাকার পাশাপাশি অন্যের চোখেও যেন কোনো বিভ্রান্তি না জন্মে—সেই সামাজিক দূরদর্শিতা নিশ্চিত করাই হলো নবীজির জীবনাদর্শ।
কোরআন আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে জীবনের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে খেয়ালখুশি কিংবা সাময়িক আবেগ নয়; বরং আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশকেই চূড়ান্ত অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সমাজের অভাবগ্রস্তদের ক্ষুধা নিবারণ ও পারস্পরিক সংহতি রক্ষায় কোরআন ও সহিহ হাদিসের ১০টি দিকনির্দেশনা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
তাহাজ্জুদ নামাজ, চাশত-ইশরাকের নামাজ, নফল রোজা, দান-সদকা ও পবিত্র কোরআন পাঠ বান্দার অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশেষ ভালোবাসা তৈরি করে।
মক্কা থেকে উত্তরমুখী প্রাচীন বাণিজ্যপথ ধরে মদিনা, খাইবার, ওয়াদিউল কুরা, তাইমা ও তাবুক হয়ে কাফেলাটি রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্ত নগরী বুসরা আল-শামে পৌঁছায়।
মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও নবীজির পারিবারিক জীবন ছিল চরম সংযমী ও কৃচ্ছ্রতাপূর্ণ। তিনি এবং তাঁর পরিবারবর্গ প্রায়ই রাতের পর রাত অভুক্ত অবস্থায় কাটাতেন
ইসলাম কোনো হারাম কাজকে হারাম বলতে নিষেধ করেনি। মদ্যপান, জুলুম, সুদ, ব্যভিচার, ঘুষ কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ কাজের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং সতর্ক করা অবশ্যই প্রয়োজন।
ইসলামের প্রশ্ন হলো, সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে? অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না? সম্পদ কি একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছে?
বিশ্বে ৮০ কোটিরও বেশি মানুষ প্রতি রাতে অনাহারে ঘুমাতে যায়। এই খাদ্যাভাব কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়; বরং ত্রুটিপূর্ণ বণ্টনব্যবস্থা ও অতিভোগবাদের সম্মিলিত সংকট।
মদিনা থেকে ইয়েমেনের পথে বিদায় জানানোর সময় নবীজি এমন কিছু কথা বলেছিলেন, যেন এ-ই তাঁদের শেষ দেখা। হয়তো ফিরে এসে আর তাঁকে দেখতে পাবেন না।
মদিনা ও তার আশপাশের পাহাড়ি উপত্যকায় (বিশেষ করে ওয়াদি আকিক অঞ্চলে) আবিষ্কৃত অষ্টম শতাব্দীর প্রাচীন পাথুরে শিলালিপিতে এই শহরকে স্পষ্টভাবে ‘তাইয়িবা’ নামের উল্লেখ করা হয়েছে।
দৃশ্যমান এই বিশ্বজগতের বাইরে এক পরম পবিত্র, নিষ্কলুষ ও পরাক্রমশালী জগৎ রয়েছে, যার বাসিন্দারা হলেন মহান আল্লাহর অনন্য সৃষ্টি ‘মালাইকা’ বা ফেরেশতাকুল।
নামাজে দাঁড়িয়ে মনে হয়, শুধু যান্ত্রিকভাবে রুকু–সেজদা করে যাচ্ছি; কী পড়ছি খবর নেই। কারও মনে হতাশার জন্ম নেয়, এমন নামাজ পড়ে কী লাভ?
সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি ঋণ থেকে এত বেশি আশ্রয় চান কেন?’ নবীজি বলেন, ‘মানুষ যখন ঋণগ্রস্ত হয়, তখন মিথ্যা বলে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে।’
কোরআনের দৃষ্টিতে চিরন্তন মুক্তির একমাত্র পথ হলো আত্মশুদ্ধি। মানুষের ভেতরটা যখন পরিচ্ছন্ন হয়, তখন তার চিন্তা, ভাষা, আচরণ এবং দৈনন্দিন সম্পর্কগুলোও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নির্ধারিত সময়ের পর নামাজ আদায়ের সুযোগ আছে কি না, কিংবা ইচ্ছাকৃত নামাজ ছাড়লে তা কাজা করতে হয় কি না—এ নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্বের যেকোনো আদর্শিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রধান বাহন ছিল এই বাকশিল্প। মুহাম্মদ (সা.) থেকে শুরু করে বর্তমান কাল পর্যন্ত বক্তৃতা অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার।