নিজেকে স্বাবলম্বী করে বাবার হাত শক্ত করতে চায় জান্নাতুন
নওগাঁর নিয়ামতপুরের গুড়িহারী গ্রামের জান্নাতুন দশম শ্রেণির ছাত্রী। দিনমজুর বাবার কষ্ট কমাতে নিজেকে স্বাবলম্বী করে শিক্ষক হতে চায় সে। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের আলোর পাঠশালায় পড়ে সে নিয়মিত।
নওগাঁর নিয়ামতপুরের গুড়িহারী গ্রামের জান্নাতুন দশম শ্রেণির ছাত্রী। দিনমজুর বাবার কষ্ট কমাতে নিজেকে স্বাবলম্বী করে শিক্ষক হতে চায় সে। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের আলোর পাঠশালায় পড়ে সে নিয়মিত।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া চেকপোস্ট এলাকা। রাস্তার পাশে ছোট একটি মুদির দোকান। সেখানে পণ্য বিক্রিতে ব্যস্ত ১১ বছরের এক শিশু। নাম তার মোহাম্মদ ছিদ্দিক। তার বয়সের অন্য
রাজশাহীর সাধারণ পরিবারের রিশাদ আহম্মেদ আরশ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের সহায়তায় তার শিক্ষা অব্যাহত রয়েছে। সে অসহায় মানুষের সেবা করতে আকাঙক্ষিত।
মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালার চতুর্থ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী মোছা. হাফছা খাতুন চরাঞ্চলের প্রতিকূলতা জয় করে ডাক্তার হয়ে দরিদ্র মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখছেন। তার নিষ্ঠা ও পরিশ্রম এলাকায় অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। সকলে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশা করছেন।
হতদরিদ্র পরিবারের ১০ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র উসাখয় মারমা পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সমাজ-রাষ্ট্রের মুখ উজ্জ্বল করার অদম্য ইচ্ছায় তিনি এগিয়ে চলেছেন। অশিক্ষিত কৃষক পরিবারে বেড়ে উঠে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি।
ভোলার বিদ্যুৎহীন মদনপুরে মো: হাসান সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে এসএসসি-তে ৪.০৭ জিপিএ অর্জন করেছেন। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের আলোর পাঠশালায় পড়ে নিজের চেষ্টায় মুদি দোকান গড়ে তুলেছেন। তাঁর গল্প এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা।
মদনপুর ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের কিশোর হাসিব কৃষি ও পশুপালনে উদ্যোক্তা হয়ে গ্রামের যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়। অভাবের মধ্যেও পরিশ্রমী এই ছাত্রের স্বপ্ন দেশের কৃষিখাতকে সমৃদ্ধ করা। সঠিক সহায়তা পেলে সে বড় উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়দের আশা।
রাজশাহীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি ছোট গ্রাম চরখানপুর। শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা যেখানে খুবই সীমিত, সেই গ্রাম থেকেই উঠে আসা এক তরুণের নাম মামুনুর রশিদ। পাঁচ ভাই
বাবুডাইং আলোর পাঠশালার ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিতু মুরমু। বাবুডাইং আলোর পাঠশালায় শুরু থেকেই পড়াশোনা করছে এবং বর্তমানে সে এই বিদ্যালেয় তার পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে।
পারিবারিক অভাব-অনটন এবং বিয়ের সামাজিক চাপকেও উপেক্ষা করে পড়াশোনার প্রতি অদম্য স্পৃহা দেখিয়েছেন রাজশাহীর মোসা. তামান্না খাতুন। এক বড় স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠা তামান্না স্বপ্ন দেখেন একদিন একজন আদর্শ শিক্ষক হবেন। শহরে বেড়ে উঠলেও আর্থিক সংকটের কারণে তার ছোটবেলা থেকেই নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
থ্যালাসেমিয়ার মতো দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার গুড়িহারী শালবাড়ী গ্রামের মো. মুরসালিন।
প্রত্যন্ত অঞ্চল চরখিদিরপুর গ্রামের সংগ্রামী তরুণ মো. আরাফাত রহমান, যে এখন রাজশাহী আলোর পাঠশালার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর্থিক সংকট আর পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তার চোখে একটাই স্বপ্ন সফল ব্যবসায়ী হয়ে নিজের পরিবারের মুদিখানার দোকানটিকে বড় পরিসরে প্রতিষ্ঠা করা। ছয় সদস্যের পরিবারে বাবা-মায়ের সঙ্গে দাদি এবং দুই ছোট বোন রয়েছে।
বিধবা মা সাজেদা বেগমের কষ্টের লাঘব করতে চায় মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালার চতুর্থ শ্রেণীর লড়াকু ছাত্রী রিমু। বাবা নূর নবী মারা যাওয়ার পর মা সাজেদা আক্তারের কপালে নেমে আসা দুশ্চিন্তা রিমুর ছোট মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করেও বড় স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলেছেন রাজশাহীর নদীর ওপারের এক গ্রামের ছেলে মো. জুয়েল রানা। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। চার ভাই-বোনের সংসারে জুয়েল সবার ছোট।
মদনপুরের দুর্গম চরে বসবাস করলেও স্বপ্নে আকাশ ছুঁতে চায় সানজিদা আক্তার। সানজিদা মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। দারিদ্র্য, যোগাযোগের প্রতিকূলতা ও
দারিদ্র্যকে জয় করে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কুড়িগ্রাম জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম চর কুমরের বসের সন্তান মো. লতিফুল ইসলাম। তিনি মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালার সাবেক শিক্ষার্থী।
টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া আলোর পাঠশালার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আফিফা মনি, যে অল্প বয়সেই পিতৃহারা হয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। বাবা মনির আলমের অকাল মৃত্যুর পর পরিবারে নেমে আসে গভীর আর্থিক অনিশ্চয়তা।
অনেকেই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু আমি একজন ফুটবলার হতে চাই। ভালো ফুটবলার হয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরতে চাই। দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।
পলাশের বাবা মো. সিদ্দিক আলী পেশায় একজন খেয়াঘাটের মাঝি। দুই নদীর মোহনায় নৌকা চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে সন্তানদের পড়াশোনা করানো ছিল এক
মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত দমদমিয়া আলোর পাঠশালা থেকে ফরিদুল আলম ২০২৩ সালে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে। তার পিতার নাম খুইল্যা মিয়া, মাতার নাম আমিনা বেগম। ছোট বেলায়
দমদমিয়ার আলোর পাঠশালার প্রাক্তন ছাত্র ফরিদুল আলম দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করেও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনার স্বপ্ন দেখছেন।
রাজশাহীর প্রত্যন্ত অঞ্চল চরখিদিরপুর গ্রামের এক সংগ্রামী তরুণ মো. আরাফাত রহমান। সে রাজশাহী আলোর পাঠশালায় ১০ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। নদীর ওপার থেকে প্রতিদিন কষ্ট করে যাতায়াত
লক্ষ্মীপুর জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে দুই ব্রিজের মধ্যখানে মেঘনা নদীর তীরে নোঙর করা নৌকায় বসবাস করেন মো. হারুনের পরিবার। তার পরিবারের পাঁচ সদসে্যর মধ্যে রেখা আক্তার সবচেয়ে ছোট।
অভাব, কষ্ট আর নানা প্রতিকূলতার মাঝেও হার মানেনি এক গ্রামীণ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। সমাজের বাধা পেরিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক নীরব সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে টেকনাফ উপজেলার কিশোর শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম।