ডাক দেয়
বয়স বাড়লে শরীর ছাড়লেঘর থাকে পরিপাটি, ডাক দেয় মাটি।আমাদের জন্মের আগেওমহুয়ার ছায়া, টগর, মগরা, মাছরাঙা ছিল।প্রকৃতির নিরুত্তর মাঠেঅনাদিকালের হাওয়ায়মৌন পৃথিবীর পাড়ে ওরাই থাকবে।সুরমার লঞ্চঘাটে মনপ্রাণ,...
বয়স বাড়লে শরীর ছাড়লেঘর থাকে পরিপাটি, ডাক দেয় মাটি।আমাদের জন্মের আগেওমহুয়ার ছায়া, টগর, মগরা, মাছরাঙা ছিল।প্রকৃতির নিরুত্তর মাঠেঅনাদিকালের হাওয়ায়মৌন পৃথিবীর পাড়ে ওরাই থাকবে।সুরমার লঞ্চঘাটে মনপ্রাণ,...
কবেকার শূন্যোদ্যানেআজ রাতে চাঁদ গেছে থেমেশ্বেতকায় পারাবত-মেঘনেবুচাদনেজারের প্রেমেআমাদেরও প্রেম ছিল নাকি?নিভৃতে কোথাও কোনো ঘর?ঘাসে ঘাসে ছেয়ে গেছে সেইফেলে আসা লোহার বাসরপরাগদণ্ডে ছিল সাপকুণ্ডলে...
কথা রয়ে গেছে বলে এই গোধূলিতেসুদূর তোমার প্রতি ঝুঁকে ঝুঁকে হয়ে যাই সারাআর সবই নিজ গানে মগ্ন, অবিরামচোখের সামনে আজ কত জনপথ ডুবে যায়ছিল সরব উত্থান, ছিল সহৃদয় গান,মনে মনে মসনবি, রুবাই, সনেট,মর্সিয়া,...
উকিল মুন্সীর লেখা ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’, ‘অপরাধী হইলেও আমি তর’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘এসো হে কাঙালের বন্ধু’, ‘ভিখারি দুয়ারে’, ‘কুলমান যৌবন দিলাম বিসর্জন’-এর মতো বিখ্যাত গানগুলো শুধু ভাটি বাংলার সম্পদই নয়, এগুলো এখন সমগ্র বাংলার বিরহভাবের সম্পদ। উকিল মুন্সী ইমামতির পাশাপাশি গান করতেন, কখনো বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে, কখনো বাদ্যযন্ত্র ছাড়া, তিনি মাঝেমধ্যে পালাগানের আসরেও যোগ দিতেন।
বাংলায় মাদ্রাসা কেবল ধর্মশিক্ষার ইতিহাস নয়; এটি একসময়ের জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশেরও ইতিহাস। মধ্যযুগের বাংলায় মাদ্রাসাগুলো শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
বল মাঠে গড়াবে রাত দশটায়। অথচ এশার আজানের পর থেকে আনোয়ার চেয়ারম্যানের বাড়ির উঠোনে মানুষ গিজগিজ করছে। এই গাঁয়ে সন্ধ্যার আগেই মানুষের নাকের ডাক শোনা যায়। অথচ আজ রীতিমতো চোখে পানি দিয়ে ছেলে–বুড়োরা ঘুম তাড়িয়েছে। উঠোনজুড়ে খড়ের বিছানায় ঝাঁকে ঝাঁকে মশার শুঁড়ে বিদ্ধ হতে হতেও মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে আছে ১৪ ইঞ্চি টেলিভিশন সেটের দিকে।
১২ জুন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো যুদ্ধ শুরুর দিন নয়, কোনো সাম্রাজ্যের উত্থান বা পতনের দিনও নয়। তবু দিনটি মানবসভ্যতার স্মৃতিতে বিশেষভাবে খোদাই হয়ে আছে। ১৯২৯ সালের এই দিনে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে জন্ম নিয়েছিল অ্যান ফ্রাঙ্ক, যে পরে হয়ে ওঠে যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানবতার শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।
হাসান আজিজুল হকের ‘দিবাস্বপ্ন’ গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ৬ নভেম্বর মুক্তকণ্ঠের প্রথম বর্ষের তৃতীয় সংখ্যার ‘শুক্রবারের সাময়িকী’তে। তখনো মুক্তকণ্ঠের অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়নি, তাই গল্পটি এত দিন শুধু ছাপা পত্রিকার পাতাজুড়েই ছিল। গল্পটি আজ প্রথমবারের মতো ‘অন্য আলো’র অনলাইন পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো।
সুইডেনের অন্যতম নারী লেখক কারিন বোয়ে ছিলেন একাধারে একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও রাজনৈতিক কর্মী। সুইডেনের ‘পথপ্রদর্শক কবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ১৯৪০ সালে প্রকাশিত তাঁর ডিস্টোপিয়ান বিজ্ঞানভিত্তিক উপন্যাস কালোকেইন-এর জন্য।
শহরের এক উঁচু স্মার্ট টাওয়ারের ৪৩ তলায় আমাদের বসবাস। এখানকার প্রায় সব নির্জীব বস্তুই তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আমাদের আরাম–আয়েশের জন্যে। আমার ঘুম ভেঙে যাওয়ায় ঘরের দেয়ালের স্বচ্ছতা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। ভোরের সূর্যের মোলায়েম আলো অল্প অল্প করে ঘরে ঢুকতে শুরু করেছে।
গরমের ছুটি মানেই আরাম করে বই পড়ার সময়। এমন কিছু গল্প, যেগুলো বই শেষ হওয়ার পরও মাথায় রেশ থেকে যাবে। সেই ভাবনা থেকে এ গ্রীষ্মের কিছু সেরা নতুন বই বেছে নিয়েছেন সমালোচকেরা। তালিকায় আছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, পারিবারিক গল্প, জলবায়ু সংকট নিয়ে উপন্যাস ও থ্রিলার।
<p>গোধূলির ডাকবাক্স খুলে<br>দূর থেকে উড়ে এল যেন সেই চিঠি<br>কুহক ছড়ানো খামে—<br><br>জমে থাকা ভাঁজপত্র থেকে বের হলো<br>জেগে ওঠা পুরোনো বিষাদ;<br>চিঠিটিতে তুমি লিখেছিলে<br>প্রেম কিছু নয় কেবল একটা...
রাতজাগা ক্ষুধার শহরপাখি, খুঁটে খাচ্ছ ভোর।জানি, আকাশইনিরাশ্রয় সব নীলেরঅগত্যা আশ্রয়।নাই নাই করেও আছিতোমার বিস্মৃতির উপযোগীআস্ত একটা আমি।সূর্যের তীব্র তনুমন ভেঙেপৃথিবীর অমাবতী ক্যানভাসেতেল-জল আর...
<p>আই স দ্য বেস্ট মাইন্ডস অব মাই জেনারেশন<br>ডেস্ট্রয়েড বাই ম্যাডনেস, স্টার্ভিং হিস্টেরিক্যাল নেকেড,<br> —‘হাউল’, অ্যালেন...
পারভেজ হোসেনের সুবর্ণপুরাণ একটি ইতিহাস–আশ্রিত উপন্যাস। এই উপন্যাসের সময় ১৫৯৯ থেকে ১৬১০। আসলে এই সময়ের পুরোটাও নয়। উপন্যাসের উল্লেখ-ইশারা দেখে মনে হয়, ১৬১০ সালের আগের বছর কয়েক এই উপন্যাসের সময়। এই অল্প সময় পরিসরে পারভেজ হোসেন একটা উপন্যাস জমিয়ে তুলতে চেয়েছেন। তিনি ‘মহিমামণ্ডিত ইতিহাস’ ও ‘ঐতিহাসিক চরিত্রের’ সঙ্গে নিজের উপন্যাসকে যুক্ত করে ফাঁপা গৌরবের অংশীদার হতে চাননি।
কবি সাজ্জাদ শরিফ প্রবন্ধকারের আলোচনার সূত্র ধরে আগামবেন ও বাদিওর কবিতাবিষয়ক বক্তব্যের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
রাস্তা পার হতে গেলে কারা যেন তাকে থামিয়ে দেয়। তার পরপরই একপশলা ধুলো উড়িয়ে মোটরগাড়ি শাঁ করে বেরিয়ে যায়। ঠান্ডুর সারা মুখে ধুলার প্রলেপ পড়ে। ছোটবেলায় বড় রাস্তা দিয়ে ট্রাক চলে গেলে তার উড়িয়ে দেওয়া সাদা ধুলো মাখার জন্য ঠান্ডু আর তার বন্ধুরা সেই ধুলোর মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ত। কী সুন্দর সে ধুলোর গন্ধ! পাউডার কোন ছার! আজও ধুলোর পাউডার মেখে ঠান্ডু দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু এই ধুলোর গন্ধে সে ছেলেবেলায় ফিরে যায় না, তার মাথা ঘুরে ওঠে, হাত থেকে জুতা জোড়া ফসকে যায়।
প্রথমবার আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার জিতেছে চীনের মান্দারিন ভাষার উপন্যাস তাইওয়ান ট্রাভেলগ। উপন্যাসটি লিখেছেন তাইওয়ানের লেখক ইয়াং শুয়াং-জি এবং ইংরেজি অনুবাদ করেছেন লিন কিং। বইটির জন্মকথা, তাইওয়ানের জটিল ঔপনিবেশিক ইতিহাস, অনুবাদ সাহিত্যের গুরুত্ব ও লেখক হয়ে ওঠার গল্প শুনিয়েছেন ইয়াং শুয়াং-জি।
কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ যেন চিরযৌবনের প্রতীক। ব্যক্তিজীবন, কবিতা, সমাজ ও রাষ্ট্র—প্রতিটি ক্ষেত্রে বশ্যতার নিয়ম ও আধিপত্যবাদী দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর বিদ্রোহ। বিট–প্রজন্মের নেতা ও ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের বিরোধী এই কবি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের পক্ষে। লিখেছিলেন তাঁর অমর কবিতা ‘যশোর রোডে সেপ্টেম্বর’। ৩ জুন এই কবির জন্মশতবর্ষ পূর্ণ হলো।
কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ যেন চিরযৌবনের প্রতীক। ব্যক্তিজীবন, কবিতা, সমাজ ও রাষ্ট্র—প্রতিটি ক্ষেত্রে বশ্যতার নিয়ম ও আধিপত্যবাদী দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর বিদ্রোহ। বিট–প্রজন্মের নেতা ও ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের বিরোধী এই কবি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের পক্ষে। লিখেছিলেন তাঁর অমর কবিতা ‘যশোর রোডে সেপ্টেম্বর’। ৩ জুন এই কবির জন্মশতবর্ষ পূর্ণ হলো।
বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে কিছু নাম সময়কে অতিক্রম করে কেবল লেখকের পরিচয় নয়, বরং একধরনের নান্দনিক ও মানবিক প্রতীকে পরিণত হয়। ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা (৫ জুন ১৮৯৮—১৮ আগস্ট ১৯৩৬) তেমনই এক নাম—যিনি কবিতা, নাটক ও প্রতীকের ভাষায় জীবন, মৃত্যু ও স্বাধীনতার গভীরতম সংকটকে রূপ দিয়েছেন। ৫ জুন তাঁর জন্মদিনে ফিরে দেখা তাঁকে কেবল স্মরণ করা নয়; বরং আধুনিক ইউরোপীয় সাহিত্যের এক ট্র্যাজিক কিন্তু উজ্জ্বল অধ্যায়কে নতুন করে পাঠ করা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে অ্যালেন গিন্সবার্গ লিখেছিলেন তাঁর কিংবদন্তি কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। এ জন্য বাংলাদেশের হৃদয়ে তাঁর জন্য একটি বিশেষ আবেগ রয়েছে।
<p>হুমায়ূন আহমেদের ‘শবযাত্রা’ গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ৬ নভেম্বর <em>মুক্তকণ্ঠ</em>র প্রথম বর্ষের তৃতীয় সংখ্যার ‘শুক্রবারের সাময়িকী’তে। তখনো <em>মুক্তকণ্ঠ</em> অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়নি,...
নর্ডিক দেশগুলো কবিতার মতো। মাথায় তাদের অরোরার মুকুট। শরীরটা রুপালি বার্চগাছের। পায়ের কাছে ফিওর্ডের জল। বছরের বেশিরভাগ সময় বরফে ঢাকা এই দেশগুলোর কবিতা তাই এক অদ্ভুত প্রশান্ত রূপের প্রতিচ্ছবি। এইসব দেশের কবিরা অনুপ্রেরণা পান প্রকৃতি থেকে—পান শক্তি ঘন বন, নীল হ্রদ, আর অরোরার নেচে নেচে যাওয়া আলো থেকে। তাঁদের কবিতায় জীবনের প্যাস্টেল রঙের ফুল ফোটে—হালকা নীল-বেগুনি-গোলাপি-সাদা।