সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আর ভুল ব্যাংক হিসাবে যাবে না
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পেতে ভুল ব্যাংক হিসাবের কারণে ভোগান্তি কমাতে আগামীকাল থেকে স্বয়ংক্রিয় হিসাব যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পেতে ভুল ব্যাংক হিসাবের কারণে ভোগান্তি কমাতে আগামীকাল থেকে স্বয়ংক্রিয় হিসাব যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।
সঞ্চয়পত্র কেনার আগে মেয়াদ, আপনার প্রয়োজন এবং মুনাফার নিয়মগুলো ভালো করে জানতে হবে।
করযোগ্য আয় না থাকলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উৎসে করের টাকা ফেরত দেবে এনবিআর। এই কর সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র জেলা সঞ্চয় অফিস বা ব্যুরো অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
কয়েক দিন ধরে সঞ্চয়পত্র কিনতে বিভিন্ন ব্যাংকে ঘুরলাম। ঘুরতে গিয়ে যা দেখলাম, সেটা কষ্টকর। একটা সরকারি ইনস্ট্রুমেন্ট কিনতে গিয়ে গ্রাহককে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়, ওপরের মহলের লোকজন সেটা সম্ভবত জানেন না।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের বর্তমান মুনাফার হারই বহাল থাকবে, নতুন করে কোনো পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে না।’
বাজেট ঘোষণার পর করদাতাসহ সাধারণ নাগরিকেরা চিন্তা করেন, এই বাজেট তাঁর খরচ কতটা বাড়াবে, কতটা কমাবে। কোন কোন জিনিসের দাম বাড়বে, কোনটির কমবে—এসবের হিসাব–নিকাশে বসে যান অনেকে।
আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সঞ্চয়পত্র নিয়ে নতুন নির্দেশনার চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্র বাড়ানোর পাশাপাশি আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে; যা কিছু ক্ষেত্রে করদাতাদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে করদাতাদের সুবিধা হবে।
সঞ্চয়পত্রে মুনাফার কর দ্বিগুণ, মুনাফা কমবে
সাধারণ মানুষের জন্য সুকুক নতুন নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রক্রিয়া সহজ করে নির্দিষ্ট মাশুল ও কাগজপত্রের তালিকা জারি করেছে। ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সকলের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা জানানো হয়েছে।
জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা অনিশ্চয়তায় বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে নিশ্চিত আয় খোঁজে সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবার। জমানো টাকা নিরাপদ জায়গায় বিনিয়োগের ভালো খাত সঞ্চয়পত্র।
সঞ্চয়পত্র কেনায় সামর্থ্য কমেছে মানুষের। এখন যত টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়, সঞ্চয়পত্র ভেঙে এর চেয়ে বেশি টাকা তুলে ফেলছেন গ্রাহকেরা। তাই চার বছর ধরে সঞ্চয় বিক্রি করে টাকা ধার নিতে পারছে না সরকার।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকায় পৌঁছে অর্ধলক্ষ কোটি ছাড়িয়েছে। বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি ঋণ এ সময়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সঞ্চয়পত্র নাকি ডাবল স্কিম: কোনটি ভালো
সঞ্চয় মানে শুধু টাকা জমানো নয়, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা গড়ে তোলা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে লাভ বেশি? সঞ্চয়পত্র নাকি ডাবল স্কিম?
ময়মনসিংহের ভালুকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি মুনাফা কোন সঞ্চয়পত্রে
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ পূর্ণ করলে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। পাশাপাশি তিন মাস পরপর মুনাফার টাকা তোলা যায়।
৫ লাখ টাকার কম পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনলে মুনাফায় উৎসে কর নেই। আর পরিবার সঞ্চয়পত্র, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ৫% উৎসে কর বসবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানান, পাঁচ লাখ টাকার কম বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকবে।
গত জানুয়ারি মাস থেকে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা অভিযোগ করে আসছেন, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের ওপর মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হচ্ছে।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল
আজ নতুন মুনাফার হার বাতিল করে পুরোনো হার বহাল রাখার প্রজ্ঞাপণ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত ছয় মাস যে হারে মুনাফা পেতেন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা, আগামী ছয় মাসও সেই হারেই মুনাফা দেওয়া হবে।