গণতন্ত্র মঞ্চের অনেক নেতা একটা আসন, মন্ত্রিত্বের লোভে আদর্শ বিসর্জন
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ‘গণভোট, রাষ্ট্র সংস্কার ও সিরাজুল আলম খানের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হাসনাত কাইয়ুম।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ‘গণভোট, রাষ্ট্র সংস্কার ও সিরাজুল আলম খানের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হাসনাত কাইয়ুম।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান, সংস্কার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ‘কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’ তাদের ওয়েবসাইটে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে।
বদিউল আলম মজুমদার রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের ৭৫তম বার্ষিকীতে বক্তারা আমলাতন্ত্রে বিরাজমান জমিদারি মানসিকতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
কবি আবুল মোমেন মে দিবস স্মারক বক্তৃতায় বলেন, সমাজসংস্কার ছাড়া রাষ্ট্রের টেকসই রূপান্তর সম্ভব নয়। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিলস-এর আয়োজনে তিনি সমাজের বৈষম্য, শিক্ষার অসমতা ও শ্রমজীবীদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন নজরুল ইসলাম খান।
জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা গণভোটের রায় উপেক্ষা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন এবং রাষ্ট্রের বৈধতা সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এনসিপির আখতার হোসেন রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার ও গণভোটের বাস্তবায়ন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও চলমান বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের।
‘বাংলাদেশের নতুন সরকার কাজে নেমে পড়েছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন সারা হোসেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে বিষয়ে সংস্কার নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল, তা ছিল সাংবিধানিক সংস্কার।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র আধিপত্য ঠেকাতে বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাজ বেশ হতবিহ্বল অবস্থায় পড়েছে এই মুহূর্তে। রাজনৈতিক সংস্কারের অনেক দিনের প্রচেষ্টাগুলো আচমকা আটকে গেল সংসদে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি বরখাস্তের অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। দলটি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দলীয় স্বার্থ প্রাধান্যের অভিযোগ তুলেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ গণভোট অধ্যাদেশ অনুমোদনের আহ্বানও করেছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বিএনপি সরকারকে গণভোটের রায় না মানলে অবৈধ ঘোষণা করবেন বলে সতর্ক করেছেন। রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশ বাতিলের তীব্র সমালোচনা করে সরকারকে সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার বাংলামোটরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ বেশ কয়েকটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। অধিকার এগুলো জাতীয় সংসদে পাসের আহ্বান জানিয়েছে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, জনগণের রুটিরুজির অধিকার ফিরে পাওয়াই প্রকৃত স্বাধীনতা। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসনের উদাহরণ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে, সরকার স্বৈরতন্ত্র বন্ধকারী অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে পতিত স্বৈরাচারের পথে হাঁটছে। গণভোট, মানবাধিকার ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকারকে অধ্যাদেশগুলো দ্রুত অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধনকে নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, গণভোট হয়েছে সংস্কারের জন্য, সংশোধনের জন্য নয়। চিফ হুইপসহ বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আযাদ।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংশোধনের বিরোধিতা করে বলেছেন, ছেঁড়া জামা জোড়া লাগিয়ে জাতির গায়ে পরাতে চান না। তিনি ফ্যাসিবাদের সূচনা ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। জনগণের রায় অগ্রাহ্য করে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিল বিএনপি, তাই রায় বাস্তবায়নে তাদের নৈতিক দায় রয়েছে। ৬৯ শতাংশ ভোটারের পক্ষে মতামতকে অগ্রাহ্য করা উচিত নয়। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সবাইকে নিয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ স্থগিতের সুপারিশে ক্ষুব্ধ টিআইবি। এই অধ্যাদেশগুলো হুবহু বিল করে সংসদে পেশের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা দেখছেন।
সব পক্ষকেই সতর্ক থাকতে হবে যে রাষ্ট্র সংস্কার যেন কোনো বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য না হয়।