ঈদের আগে বাড়তি আয়ের খোঁজে তাঁরা
গতকাল বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কথা হয় কাঠমিস্ত্রি আলী হোসেনের সঙ্গে। তাঁর বয়স ৬০ পেরিয়েছে। জানালেন, কাঠের কাজ কমে গেছে।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কথা হয় কাঠমিস্ত্রি আলী হোসেনের সঙ্গে। তাঁর বয়স ৬০ পেরিয়েছে। জানালেন, কাঠের কাজ কমে গেছে।
চাঁদপুরের রিকশাচালক হুমায়ুন কবির দৈনিক ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা আয় করেন, যার অর্ধেক রিকশাভাড়াই চলে যায়। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।
এখন বয়স হয়েছে, কষ্ট হয়। তার পরও বললেন, ‘কাম কইরা খাই। চুরি করলে ইজ্জত যাইব। ধরা খাইলে মাইর খাইব। কী দরকার। আল্লা যেভাবে চালায় সেভাবে চলি।’
কাজের খোঁজে শ্রমজীবী মানুষেরা প্রতিদিন যেখানে ভিড় জমান, সেই ‘মানুষ বেচাকেনার হাটে’।
‘দিন দিন যেভাবে সবকিছুর দাম বাড়তেছে, সেভাবে তো আর আমাদের ইনকাম বাড়ে না। হিমশিম খেতে হয় আমাদের। বড়লোকদের তো আর কিছু হয় না। ধনীরা আরও ধনী হয়, আর গরিবেরা আরও গরিব হয়।’
তামিম কোটচাঁদপুর উপজেলার সাব্দালপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ছে। জন্মের এক সপ্তাহ পরই তামিমের ডান পা ভেঙে যায়।
খুলনার কয়রা উপজেলার ফতেকাঠি গ্রামের সড়ক ধরে গিলাবাড়ি লঞ্চঘাটের দিকে যেতে যেতে হঠাৎ চোখ আটকে যায় রাস্তার ধারে।
কুমিল্লার দিনমজুর ফয়েজ উল্লাহর দুই ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। একজন মাস্টার্সে, অন্যজন অনার্সে। বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বড় ছেলে।
রাজধানীতে রিকশাচালক আনসার আলী (৭৪) একটি পরোটা দিয়ে দুপুরের খাবার সারছেন। ‘যত কম টাকায় খাওয়া যায় চেষ্টা করি’, বলে তিনি জানান। ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা ও হাজিরা শ্রমিকদের জীবনও একই রকম কষ্টের।
মেঘনার নৌকায় জন্ম নিয়ে জলযাযাবর জীবন কাটান মানতা সম্প্রদায়ের জাহানুর বিবি ও পরিবারের সংগ্রামী দিনযাপন। ঝড়-জলের মুখোমুখি হয়েও ঘরের আশ্রয় নেই। সরকারি সুবিধা না পেয়ে চলছে দেনা-দেনার জীবন।
১২ বছরের মারুফ মিনিবাসে সহযোগী হয়ে সংসার চালাচ্ছে, ৬০+ জয়নাল আবেদীন মিন্তির কাজ করে টিকছেন, আবদুল হালিম চাকরি হারিয়ে পান বিক্রি করছেন। রাজধানীর ব্যস্ততার মাঝে তাঁদের জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তা। ‘যা আয় হয়, খায়ে কিছু থাহে না’।
চট্টগ্রাম নগরে জুতা সেলাই ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করে সংসার চালান কাঙ্গাল দাস। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মাছ-মাংস কেনা বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর পরিবারের। এ কারণে ডাল-সবজিতেই দিন চালাচ্ছেন তিনি।
জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে মাছহীন হয়ে গেছে, জীবিকায় সংকটে পড়েছেন নদনির্ভর মানুষ। দুদু মিয়ার মতো অনেকে ২০–৩০ বার জাল ফেলেও দু-একটা ছোট মাছ পান না। বালু উত্তোলন ও খনন সত্ত্বেও নদের অবস্থা উন্নয়ন ঘটেনি।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের লিটন চন্দ্র দাস ২৮ বছর ধরে জুতা সেলাই ও কালি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দৈনিক ২৫০-৩০০ টাকা আয়ে অসুস্থ মায়ের ওষুধ কিনতে গিয়ে সংসার চলে না। বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বে খরচে তারা অনাহারে-অর্ধাহারে থাকছেন।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা! স্থান, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ভানুরা বিল হাওর। হালকা মেঘলা আকাশ, চারদিকে শুধু পানি আর পানি।
নামের শেষে মা–বাবা কেন ‘সাহেব’ শব্দ যুক্ত করেছেন, তা এখনো বুঝতে পারেননি ষাটোর্ধ্ব শাক বিক্রেতা হক সাহেব।
‘পরতি বছর ধান পাই ১২০ থাকি ১৩০ মণ। ইবার অর্ধেক ধান পানিতে গেছে। মনরে খালি বোঝ দিবার লাগি আধা পচা ধান কাটছি।
কিশোরগঞ্জসহ দেশের সব হাওর এলাকায় বৃষ্টি কমেছে। রোদ উঠেছে। চাষিরা আবার আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।
প্রায় ২০ বছর ধরে নদীর তীরে বসবাস করা এই মানুষেরা রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজ নৌকাতেই করেন।
কখনো কৃষিশ্রমিক, আবার কখনো ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন আবদুল কাদের। চারজন মানুষের সংসারে একমাত্র উপার্জন করা মানুষ তিনি।
নাছিমার দুই মেয়ে, দুই ছেলে। স্বামী কোনো ভরণপোষণ দেন না। গৃহপরিচারিকার কাজ করে নাছিমাকেই সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ সামলাতে হয়।
ফুটপাতের খাবার বিক্রেতারা বলছেন, বিক্রির অবস্থা সুবিধার নয়। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে লাভ কমেছে।
গলায় ঝুলছে ছোট্ট ঝুড়ি, তাতে বাদাম, বুট, পপকর্ন। সেই ঝুড়ি নিয়ে ধীর পায়ে হাঁটা মানুষটির নাম গোলাম মোস্তফা (৪০)।
রিকশাভ্যানের ওপর বসে আছেন এক ব্যক্তি। কাঁধে ছেঁড়া গামছা, গায়ে ধুলোমাখা টি-শার্ট, পরনে জীর্ণ লুঙ্গি।