ধৈর্যের পুরস্কার: নবীজির জীবনের ৩ ঘটনা থেকে শিক্ষা
তিনি প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি। বরং উত্তর দিলেন, ‘আমি আশা করি, আল্লাহ এদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন এক প্রজন্ম সৃষ্টি করবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে।’
তিনি প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি। বরং উত্তর দিলেন, ‘আমি আশা করি, আল্লাহ এদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন এক প্রজন্ম সৃষ্টি করবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে।’
ইসলামে বুদ্ধি হলো সেই আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিবেক, যা মানুষকে ক্ষণস্থায়িত্বের মায়া কাটিয়ে চিরন্তন সত্য ও অনন্ত জীবনের প্রস্তুতিতে পরিচালিত করে।
দ্বিতীয় শাম সফর থেকে ফেরার দুই-আড়াই মাস পর এই বিবাহ সম্পন্ন হয়। সিরিয়ার বুসরা থেকে গ্রীষ্মকালীন কাফেলাটি মক্কায় ফিরে আসে আনুমানিক আগস্ট ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে।
মহানবী (সা.) নিজে মাত্র ২৩ বছরে একটা গোটা জাতির চিন্তা, সংস্কৃতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলে দিয়েছেন। অথচ তাঁর দিনও ছিল ২৪ ঘণ্টার। কীভাবে করেছেন এত কিছু?
মুহাম্মদ (সা.) নিজের প্রাত্যহিক আচরণে এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত জীবনপদ্ধতি বাস্তবায়ন করে গেছেন, যা মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গের সুস্থতা নিশ্চিত করে।
ক্ষমা মানুষের সর্বোচ্চ নৈতিক গুণ, যা অন্তরের সংকীর্ণতা ও প্রতিশোধপরায়ণতা দূর করে প্রশান্তি আনে। প্রতিশোধ নেওয়া মানবীয় স্বভাব হলেও তা জয় করে ক্ষমা করাই প্রকৃত মহত্ত্ব।
রাসুল (সা.) মসজিদে প্রবেশ করে বন্দীর দিকে তাকাতেই তাঁকে চিনতে পারলেন। তিনি সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কি জানো, কাকে বন্দী করে এনেছ?’
তাঁদের যোগ্যতা এক ছিল না। দায়িত্বও এক ছিল না। কিন্তু প্রত্যেকের মধ্যে রাসুল (সা.) এমন কিছু দেখেছিলেন, যা অন্যরা হয়তো তখনো দেখতে পায়নি।
এক বৃদ্ধ নারী এসে বললেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে বেহেশতবাসী করেন।’ নবীজি (সা.) মৃদু হেসে বললেন, ‘কোনো বৃদ্ধা তো বেহেশতে যাবে না।’
মদিনায় পৌঁছে রাসুল (সা.) নতুন নগরবাসীকে কী বার্তা দিয়েছিলেন? মাত্র চারটি গভীর মানবিক মূলনীতির ওপর তিনি গড়ে তুলেছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ ও শান্তির সমাজ।
নবীজি এসেছিলেন মানুষের জন্য বুকভরা আশার বার্তা নিয়ে। আল্লাহ তাই তাঁর পরিচয়ে বলেছেন, “হে নবী, আপনাকে তো পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে।”
প্রাচীন কোরাইশ সমাজে কায়িক শ্রম নিয়ে একধরনের অভিজাত অবজ্ঞা ছিল, একে দুর্বলদের কাজ মনে করত। কিন্তু পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েনে তিনি জীবিকার পথ বেছে নেন।
সুন্নতের সৌন্দর্য এখানেই যে এর অনুসরণে জীবনের সাধারণ কাজও সওয়াবের উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে। খাওয়া, ঘুম, পোশাক পরা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালেও তা ইবাদত হয়।
হাদিস ও শামায়েল শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে তাঁর জুতার উপাদান, চামড়ার বৈশিষ্ট্য, আকৃতি, ফিতা বাঁধার ধরন এবং সাহাবিদের তা সংরক্ষণের হৃদয়স্পর্শী বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে।
বণিকের আবেদন কাবা প্রাঙ্গণের নেতাদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। সবার আগে সাড়া দেন নবীজির চাচা জোবাইর। তিনি ঘোষণা দেন, এই অবিচার অমীমাংসিত রাখা চলবে না।
সরল পথ কোনটি—আল্লাহ তা সুরা আনআমের ৩ আয়াতে বিশদ বলেছেন এবং শেষ অংশে নবীজিকে আল্লাহ জানাতে বলেছেন যে ‘এটাই আমার সরল পথ’।
সিরাতের বিভিন্ন বর্ণনায় ছড়িয়ে থাকা বয়সের এই আপাত-বিরোধ তাই কোনো অসংগতি নয়; বরং এটি একটানা চার-পাঁচ বছর ধরে চলা এক দীর্ঘ সংঘাতের বিভিন্ন পর্বের স্বাভাবিক প্রতিফলন।
অসুস্থ বালকটি ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের হওয়া সত্ত্বেও নবীজি (সা.) তার অসুস্থতার খবর পেয়ে শুশ্রূষায় উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রমাণিত হয় জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়িত্ব।
নবীজির দাওয়াতের পদ্ধতিতে মানুষের মনস্তত্ত্বের অসাধারণ প্রয়োগ দেখা যায়। তিনি মানুষের স্বভাব বুঝতেন। তার অবস্থান বুঝতেন। তার সামর্থ্য বুঝতেন। তারপর সেই অনুযায়ী কথা বলতেন।
কৈশোরের শুরুতে চাচা আবু তালিবের সঙ্গী হয়ে নবীজীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ঘটে এমনই এক শাম সফরে। এখানেই ঘটে সিরাতের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
মনীষীরা এই পুণ্যভূমিতে প্রবেশের সময় গভীর বিনম্রতা বজায় রাখতেন। বর্তমানে উড়োজাহাজ, ট্রেন বা বাসে যাতায়াত স্বাভাবিক; তবে অন্তর যেন শ্রদ্ধা ও সমর্পণে পূর্ণ থাকে।
রাসুলের প্রতি ভালোবাসা নিছক ভাবাবেগের বিষয় নয়; বরং তাঁর সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুবর্তন, জীবনাচরণের প্রতিফলন এবং তাঁর নির্দেশিত পথে নিজেকে সঁপে দেওয়াই হলো প্রকৃত ভালোবাসার প্রমাণ।
উম্মতের জন্য তাঁর হৃদয়ে মমতা, ব্যাকুলতা ও গভীর দরদ ছিল। সামান্য কষ্টে তিনি ব্যথিত হতেন, উম্মত যাতে দোজখের আগুন থেকে রক্ষা পায়, সে জন্য তিনি ব্যাকুল থাকতেন।
আবওয়ায় পৌঁছানোর পরপরই মা আমেনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। নির্জন উপত্যকায় তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।