গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট দূর করতে সময় লাগতে পারে, চুরি-লুটপাট বন্ধে নয়
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, বাড়তি বিদ্যুৎ বিল, বাজার কারসাজি ও জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ক্যাব সভাপতি।
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, বাড়তি বিদ্যুৎ বিল, বাজার কারসাজি ও জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ক্যাব সভাপতি।
চলমান জ্বালানিসংকটে দেশবাসী উদ্বিগ্ন। কিন্তু এই সংকটের রাতারাতি কোনো সমাধান যে নেই।
এ খাতের বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারলে অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি হবে।
জুলাইয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ছয় লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন।
দুই বছর ধরেই গ্যাসের সমস্যা চলমান। বর্তমানে বিদ্যুৎ–সংকটে বিপাকে পড়েছেন বেকারি পণ্য উৎপাদকেরা।
কিছু এলাকায় গ্যাস পরিস্থিতি গত ২-৩ দিনে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো সংকট রয়ে গেছে।
পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র বলছে, এর আগে এ মাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ১০ আগস্ট। ওই দিন ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছিল।
জ্বালানি আমদানি খরচ দ্বিগুণ হওয়ার পরও স্থিতিশীল ডলারের বাজার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। তবে শিল্পে গতি ফিরলে ডলার ও রিজার্ভে চাপ বাড়ার আশঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা।
সরাসরি কেনা কার্গো আসেনি। জরুরি কিনতে গিয়ে এক কার্গো এলএনজিতে বাড়তি খরচ অন্তত ১৬৫ কোটি টাকা।
গ্যাস-বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেল ও ফার্নেস তেলের ব্যবহার বেড়েছে। আগস্টের প্রথম ১৫ দিনে তেল বিপণন কোম্পানি ও বিপিসির বিক্রির হিসাব বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
সরকারের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে তিন মাস পার হয়েছে জ্বালানিসংকট মোকাবিলায়।
এলএনজি কার্গোর অভাবে বুধবার বেলা তিনটায় এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে এবং লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন কার্গো না আসায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে দেশে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ব্যক্তির পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি; আগামী ২৪ আগস্ট থেকে ফুলবাড়ীর উদ্দেশে প্রচার যাত্রা ও ২৬ আগস্ট সেখানে গণসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা চার জাহাজ এলএনজির কোনোটি আসেনি। দুই দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ আবার কমছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ৩০০ কোটি ঘনফুট হলে মোটামুটি সব খাতে সরবরাহ ধরে রাখা যায়—তবে স্বাভাবিক সময়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।
জ্বালানিসংকট নিরসনে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনসহ চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জুলাই ও আগস্টের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ১২টি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে বিকেএমইএ।
সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু। তবে আবার বন্ধ এক্সিলারেটের টার্মিনাল।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ হলে সংকট আরও বেড়ে যায়।
গুদামে মজুত থাকা পণ্য আপাতত সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সরবরাহ–সংকট তৈরি হয়নি।
সরকারের অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতার কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।