আনিসুল হক :: ওকি গাড়িয়াল ভাই...
হামেদ গাড়িয়ালের অল্প বয়স। তা বিশও হতে পারে, বাইশও। তাদের বাবা ছগির গাড়িয়ালও ছিল এ এলাকায় অতিবিখ্যাত।
হামেদ গাড়িয়ালের অল্প বয়স। তা বিশও হতে পারে, বাইশও। তাদের বাবা ছগির গাড়িয়ালও ছিল এ এলাকায় অতিবিখ্যাত।
যুদ্ধের প্রথম হপ্তাতেই সংবাদ অফিসে আগুন দিল। সাবের ভাই আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেলেন। ফিনিস। কয়লার টুকরা দেখে আজরাইল ফেরেশতাও কেঁদে ফেলল।
লেনিনগ্রাদে থাকাকালে তিনি কলেজে ভর্তি হন এবং পরে বহিষ্কৃত হন। কারণ ছিল তাঁর ‘সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার অভাব’।
মহসিন খুব ভালো ছাত্র ছিল, সে ব্যাকরণ পছন্দ করত, ফিজিকসের নৈয়মিক তার ভালো লাগত। কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া―এদের মধ্যে একটা শৃঙ্খলা আছে, সে শৃঙ্খলা পছন্দ করত।
তিনি আবার ভয় পেয়ে যান। কেন এমন হচ্ছে? এমন সময় তাঁর ভেতর থেকে কে যেন বলে ওঠে, ‘তোমার ওই পাপী হাত দিয়ে তাঁকে ছুঁতে পারবে না।’
প্রায়ই লম্বা ঘুমে, না হয় নীলক্ষেতের পুরান বইয়ের ঢিপি কিংবা আজিজ মার্কেটের প্রথমা-তক্ষশিলায় বই নাড়াচাড়া করেই কাটে।
আমি নিশ্চিত এই লোকই আমার কবিতা লেখার কথা ডিজিকে লাগিয়েছে। ধীর পায়ে পিডির রুম থেকে বেরিয়েই সিঁড়ির দিকে চোখ গেল।
অপু কেন যেন ভ্যা–ভ্যা করে কাঁদতে লাগল, সুলতান তাকে চেপে ধরে রাখল, পুরোনো সমস্ত ভুলের মতন গাঢ় করে জড়িয়ে ধরে রাখল বন্ধুকে।
হাতের চুড়িগুলো নিয়ে মৃদু নাড়াচাড়া করতে করতে নীলা বলল, ‘কোম্পানিতে আমরা যারা কাজ করি, তারা সবাই মিলে ইউনিয়ন করেছি কিনা। তার গঠনতন্ত্রটা ছাপাব।’
সামনে যানজট যেন হামাগুড়ি দিয়ে এগোয়, লোকজন একে অপরকে গালাগালি করে আর গাড়ির হর্নের শব্দ আকাশ ফুঁড়ে এয়ার-রেইড সাইরেনের মতো বেজে ওঠে।
হাওরের দেশে ফরসা মানুষ বিরল। অবশ্য কালো কালো মানুষদের মধ্যে ভাগ্যবানরা অন্যের শ্রম চুরি করে অনেক বছরের তপস্যায় একটু-আধটু ফরসা হয়ে যাচ্ছে।
রনি হঠাৎ তেড়ে আসছে তোমাদের দিকে। রনি তোমাকে বলে, এক্ষুনি তোমার বন্ধু সুলেমানকে নিয়ে বের হয়ে যেতে।
আফজাল পশ্চিমে ঢলে পড়া সূর্যের প্রায় গ্রীষ্মের মতো উষ্ণ তেজ মাথা পেতে নিয়ে হুইলচেয়ার ঠেলে চলে যায় সরু প্রধান ফটকের কাছে।
আমি তখন এমন অবস্থায় ছিলাম যে ভাগ্য মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায় ছিল না। মাথা নিচু করলাম। তখনো বুঝতে পারিনি যে আমি এক ভয়ঙ্কর ফাঁদে পা দিয়েছি—
নিজেকে দেখে এত বড় ধাক্কা খেল খায়রুন, ঠিক আঠারো বছর আগের ধাক্কাটার মতো।
সে দেখতে পায় এই শাবককে ঘিরে তার অপার সম্ভাবনা, অজস্র ‘কনটেন্ট’। বেড়ালখানা তুলে নেয় দুই আঙুলের ডগা।
ইয়োশিয়া নিজেকে প্রশ্ন করে। আমি কি এমন কোনো বন্ধন নিশ্চিত করতে চাইছি, যা আমাকে এখন এখানে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে?
গোত্রপ্রধানের হুমকি ও পৈশাচিক হাসি তাদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ ও আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিল।
মনে পড়ছে দাঁড়াশ সাপের যুদ্ধনাচের দৃশ্য। মিয়াবাড়ির উঠানে বেদেরা দেখিয়েছিল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সাপের লড়াই।
তাওফিক ওই গ্রামে কত দিন ছিলেন তা মনে নেই। আর ওই ঘটনা কততম দিনে ঘটেছিল, তা–ও ঠিক বলতে পারবেন না। তবে বাঁশহাটিয়া অবস্থানের চতুর্থ বা পঞ্চম দিন হতে পারে।
গত ছয় মাসে সে কোনো বন্ধুকে রেস্তোরাঁয় নিয়ে খাওয়ায়নি। কাউকে সিগারেট গিফট করেনি। মদ খাওয়ায়নি কাউকে। তাই বন্ধুদের কাছেও বুঝি সে আর আগের মতো প্রিয় নেই।
কাইয়ুম তাকাল! আবু মুসার মুণ্ডু কি ছাদ থেকে ঝুলছে? আবু মুসা ডাকছিল ‘নানা’? বাতেন মামার মুণ্ডু ছাদ থেকে ঝুলছে। বাতেন মামা বললেন, ‘শুভ জন্মদিন।’
ভোলাও তাই আর কোনো উচ্চবাচ্য করেনি। নিজের স্মৃতি ফিরে পেলেও তা জানায়নি। তবে শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়ার পর কুলিগিরি শুরু করেছিল। কাল্লু সর্দার তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কুলির কাজ।
জুনকো কিছুক্ষণ ভেবে দেখে। কিন্তু বুঝতে পারে না মিয়াকি কী বোঝাতে চেয়েছে। তারপর জুনকো বলে, ‘কখনোই ভাবিনি আমি কীভাবে মরব। তা নিয়ে ভাবতেই পারি না। শুধু তা-ই নয়, আমি কীভাবে বাঁচব, সেটাই তো জানি না।’