কালো নদীর মতো সড়ক
মোতালিবের দিশাহারা কানে এসব কথার কিছুই পৌঁছায় না। তার হঠাৎ মনে হয়, হাত–পা অবশ হয়ে তার চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে। কালো সড়কটা এইবার বড় হতে হতে তার বুকের ওপর দিয়ে রক্ত, মাংস, হাড়, পাঁজর গুঁড়ো করে সামনের দিকে চলে যাচ্ছে।
মোতালিবের দিশাহারা কানে এসব কথার কিছুই পৌঁছায় না। তার হঠাৎ মনে হয়, হাত–পা অবশ হয়ে তার চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে। কালো সড়কটা এইবার বড় হতে হতে তার বুকের ওপর দিয়ে রক্ত, মাংস, হাড়, পাঁজর গুঁড়ো করে সামনের দিকে চলে যাচ্ছে।
একটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধের বিজিত যোদ্ধা আমার বাবা। একটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধের ক্ষতবিক্ষত ভাস্কর্য আমার মা। একটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধ আমার জন্মদাতা। যুদ্ধে নপুংসক হওয়া ওই অন্ধকারবন্দী মানুষটা এই যুদ্ধশিশুর বাবা।
এখনো স্পষ্ট মনে আছে সেদিন মঙ্গলবার ছিল। কেন আমি বাসায় ছিলাম না তা–ও মনে আছে। কী করে যেন ওইবার পহেলা বৈশাখ মঙ্গলবারেই পড়েছিল।
কাতাগিরি তার অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে দেখে—একটা বিশাল ব্যাঙ তার জন্য অপেক্ষা করছে। পেছনের দুই পায়ে দাঁড়ানো সে ব্যাঙ ছয় ফুটের বেশি লম্বা, শক্তপোক্ত তার শরীর।
নমনীয় মিহি গলার আওয়াজ। দরজা খুলে দিলাম। হকচকিয়ে গেছি। বিস্ময়ে আমার ভেতর অবশ ভাব চলে এসেছে। হতভম্ব চোখে দেখলাম সামনে হিম দাঁড়িয়ে আছে।
সাবরিনা বুঝতে পারে না নাদিয়ার এমন ইমম্যাচিউর কথাবার্তার কারণটা কী। দিন দিন ওর বুদ্ধিশুদ্ধি কমছে নাকি?
অল্প সময়ের মধ্যেই সে সেই বাক্সের ভেতরেই বড় হতে শুরু করল। প্রতিবছর শেষের বালিশ থেকে একটু করে তুলা বের করে দেওয়া হতো, যাতে তার বৃদ্ধির জন্য জায়গা তৈরি হয়।
‘আপনি কার হয়ে কাজ করছেন? বলুন, কোনো তথ্য আড়াল করবেন না। কারা মদদ দিচ্ছে আপনাকে? কত টাকা পেয়েছেন? কোথায় সেই টাকা? চুপ করে থাকবেন না। বলুন!’
ধাতব না হলেও শক্ত কিছু একটা মাটির গর্ভে সমাহিত ভেবে, অথবা তার মনে গুপ্তধন না হলেও দামি কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশা নিয়ে সে খনন অব্যাহত রাখে।
এর পরের দিন, লাঞ্চের পর তাহমিনা বিশ্বাসযোগ্য রফিককে যথেষ্ট আপ্যায়ন করেছিল। বলেছিল, ‘আজ কবিতাটবিতা হবে না, কথা আছে তোমার সঙ্গে।’
তার পাতানো বাবা তাকে বলতেন, দামে আটকে যাওয়ার সময় যে মেয়েটিকে একদিন তিনি দেখেছিলেন, সেই মেয়েটির মাথাভরা কালো চুল।
আবদুল গফুর একাই শুধু গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়, বন্ধুদের আড্ডায় চুপচাপ বসে থাকে, আর কী যেন ভাবে। কী ভাবে তার বন্ধুরা জানে না।
কিন্তু মৃত্যু কি আসলেই হয়েছে আমার? হাহাকার, দুর্গন্ধ, তীব্র অস্বস্তি ছাপিয়ে শুধু সত্যটা জানতে ইচ্ছা করে।
আশরাফ ততক্ষণে সাহানুর নিটোল হাতটা টেনে তুলে ফেলেছে নিজের চোখ আর নাকের বড্ড কাছে। অস্ফুট আড়ষ্ট কণ্ঠে সাহানুর মৃদু গুঞ্জন ভেসে আসল।
‘বিয়ের পর রাতের পর রাত জেগে আমরা গল্প করব। আমি চা বানিয়ে আনব। তারপর চা খেতে খেতে দুজনে জোছনা দেখব। মনভরে।’
সক্রেটিস চোখ তুলে আকাশের দিকে তাকালেন, যেন অদৃশ্য কোনো ভোরের আলো দেখতে পাচ্ছেন, ‘তোমরা ভয় পেয়ো না।
মায়ের দিন কাটে ধনীদের বাড়িতে কাপড় কাচায়; অন্ধ স্বামীর দিন কাটে দরিদ্রদের ঘরে কোরআন তিলাওয়াতে। বিকেলে সেই এককক্ষের বাসায় ফিরে আসা তার অভ্যাস ছিল না।
মায়া বলল, ‘স্যার,আমি একটা গল্প শোনাতে চাই আপনাকে। এটা আমার জীবনের গল্প নয়, কিন্তু আমার অভিজ্ঞতার ভেতর থেকেই জন্মেছে।’
‘এটা তুই কী করলি রে মামা?’ অমিয় অবাক হয়ে বলল, ‘কী করলাম?’ ‘তোর মায়ের বিয়ের অ্যানাউন্সমেন্টে তন্বী এল কোত্থেকে?’
আজকাল কী যে হয়েছে, কেউ আর তাঁকে পছন্দ করছে না। চিঠি বিলি করার সময় আগের মতোই তিনি রঙ্গ-রসিকতা করেন, কিন্তু লোকেরা মুখ ভার করে থাকে।
প্রতিবছর আমরা এক মাস ইউরোপ দেখি, ট্রেন থেকে কোনো অচেনা জায়গায় নেমে পড়ি। সঙ্গে দুটো ব্যাকপ্যাক ছাড়া কিছুই থাকে না।
পড়ে শোনাই, ভাই তো পড়তে জানে না! আমি বলি, ভাই, আপনের বউ তো উকিল নোটিশ পাঠাইছে, আপনের সাথে আর থাকবে না!
‘যদি জানতে পারতিস সেদিন আমার চোখের কথা কে জানিয়েছিল মিলিটারিকে, তুই কী করতিস?’
বাবা মাঝেমধ্যে কারাগারের দেয়ালে হেলান দিয়ে সুরা ইয়াসিন পড়েন। পুরোটা পড়তে পারেন না। ইজরায়েলি বাহিনীরা তিলাওয়াত শুনে তেড়ে আসেন।