পরকালে শয়তান যেভাবে দায়মুক্তি ঘোষণা করবে
সে নিজের দায় অস্বীকার করে বলবে, সে কাউকে জোর করেনি; শুধু ডেকেছে, আর মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়েছে। কোরআন সেই ভয়াবহ দৃশ্যের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
সে নিজের দায় অস্বীকার করে বলবে, সে কাউকে জোর করেনি; শুধু ডেকেছে, আর মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়েছে। কোরআন সেই ভয়াবহ দৃশ্যের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
মানুষ ও জিন তো বটেই, অন্যান্য প্রাণীও ছিল যার অধীনস্থ। এই বিশাল সাম্রাজ্যের মাঝে ডুবে থেকেও তিনি আল্লাহকে ভুলে যাননি।
পিপাসায় কাতর মানবজাতি যখন একটু শীতল পানির জন্য ব্যাকুল থাকবে, তখন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীজির উম্মতের জন্য অপেক্ষা করবে এক অনন্য নেয়ামত—হাউসে কাউসার।
‘আসহাবে কাহাফ’ মানবজাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তের এক শাশ্বত মনস্তাত্ত্বিক পাঠ—কীভাবে নিরেট তাওয়াক্কুল ও অবিচলতা প্রতিকূলতম পরিস্থিতিকেও স্বর্গীয় শান্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
আধুনিক পশ্চিমা প্রাচ্যবিদেরা চিরাচরিত অপবাদ দিয়ে এসেছে যে মুহাম্মদ (সা.) স্বশিক্ষিত কিংবা তিনি কোনো ইহুদি-খ্রিষ্টান পাদ্রির কাছ থেকে পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থ শিখে নিয়ে কোরআন রচনা করেছেন।
একজন মানুষ কীভাবে কথা বলে, শব্দ নির্বাচনে কতটা সতর্ক থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় আলাপে কতটা সংযম বজায় রাখে, তা দিয়েই নির্ধারিত হয় তার আত্মিক গভীরতা ও চরিত্রের মান।
আল্লাহ যখন মানুষকে জীবন, আলো, বাতাস আর রিজিক দান করেন, তখন তিনি কোনো কার্পণ্য করেন না। কোনো বিনিময়ের শর্ত ছাড়াই তিনি বান্দার ওপর করুণার বারিধারা বর্ষণ করেন।
যার অন্তর ভালো ও নরম, সে আল্লাহর কথা শুনে সহজেই ভালো কাজের দিকে এগিয়ে যায়। আর যার অন্তর শক্ত ও খারাপ, তাকে যতই ভালো কথা বলা হোক, তাতে খুব বেশি লাভ হয় না।
আল্লাহর রাজত্বে অণু পরিমাণ অবিচারও উপেক্ষিত থাকে না। সৃষ্টির প্রতিটি স্পন্দনের হিসাব যেমন তাঁর কাছে রয়েছে, তেমনি অবলা প্রাণীর দীর্ঘশ্বাসও বৃথা যায় না।
সত্যকে অস্বীকার করার অন্ধকার, ভ্রষ্টতা ও শিরকি বিশ্বাসের অন্ধকার; এর সঙ্গে আছে নিজের প্রতিপালক ও পরকালের শাস্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার অন্ধকার।
প্রয়োজন স্বামী–স্ত্রীর মধ্যকার গভীর বিশ্বাস ও ত্যাগ স্বীকার। পরিবারে যদি অশান্তি বিরাজ করে, তবে তার বিষবাষ্প ধীরে ধীরে সন্তান ও সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
মানুষ যখন আল্লাহর সুস্পষ্ট আদেশ-নিষেধ ও শরিয়তের সীমানা উপেক্ষা করে নিজের খেয়ালখুশি, আবেগ ও কামনা-বাসনাকে জীবনের একমাত্র পথপ্রদর্শক বানিয়ে নেয়, তখন সে প্রকারান্তরে নিজের নফসের উপাসনা শুরু করে।
মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও নবীজির পারিবারিক জীবন ছিল চরম সংযমী ও কৃচ্ছ্রতাপূর্ণ। তিনি এবং তাঁর পরিবারবর্গ প্রায়ই রাতের পর রাত অভুক্ত অবস্থায় কাটাতেন
ইসলামের প্রশ্ন হলো, সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে? অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না? সম্পদ কি একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছে?
প্রকৃতির ক্ষুদ্রতম প্রাণীর মধ্যেও আল্লাহ-তাআলা যে নিখুঁত ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা ও হেকমত রেখেছেন, তা নিয়ে চিন্তা করলেই মানুষের সামনে সৃষ্টিকর্তার কুদরত আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পৃথিবীতে সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কার? বিপদের মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়ই–বা কারা? নিঃসন্দেহে তাঁরা আমাদের মা-বাবা। শৈশবে তাঁরাই আমাদের পথ চলতে শিখিয়েছেন।
কোরআনে নবী মুসা ও খিজিরের (আ.) ঐতিহাসিক সাক্ষাতের গল্পটি মানব ইতিহাসের এক পরম শিক্ষণীয় অধ্যায়; যা আমাদের দেখা, জ্ঞানে নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা উচিত।
কোরআনের এই ব্যাকরণিক যোগসূত্র প্রমাণ করে যে, সুরা ফিলের ঘটনা না ঘটলে সুরা কোরাইশের ‘নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সুবিধা’ (ই–ইলাফ)-র কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তিই থাকে না।
আল্লাহর অসংখ্য নামের মধ্যে কোন নামে তাঁকে ডাকবেন, কোন নামের তাৎপর্যই–বা কী। মনের ভেতরে অনেক কথা জমে আছে—বলতে চান,
আল্লাহ নুহ (আ.)-কে প্রেরণ করে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দেন; কিন্তু সম্প্রদায় তা প্রত্যাখ্যান করে মূর্তিপূজা ও কুসংস্কারে আঁকড়ে থাকায় অবশেষে মহাপ্লাবনের মাধ্যমে তাদের পরিণতি ঘটে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত প্রাচীন কোরআনের একটি পৃষ্ঠা আবিষ্কারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক একাডেমিক জগতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
নবী ইউনুসের কথা ভাবুন। গভীর সমুদ্রের অন্ধকার, রাতের অন্ধকার, মাছের পেটে দমবন্ধ অবস্থা, তিন স্তরের ঘুটঘুটে অন্ধকার। এখান থেকে বের হওয়া মানবীয় দৃষ্টিতে অসম্ভব।
ভালো কাজের মাধ্যমেও ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব, যদি তাতে নিষ্ঠা থাকে। রাসুলের কাছে একবার বলা হলো যে এক ব্যক্তি রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে কিন্তু সকালে চুরি করে।
মুঠোভর্তি বালুর মতো হাত ফসকে বেরিয়ে যাচ্ছে টাকাপয়সা। মনের ভেতরে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে, আমি কি ভুল কিছু করছি? এই প্রশ্নের উত্তর আছে কোরআনে।