বৃষ্টিকে ভেজাব আজ
বৃষ্টির জলতেষ্টা এবং তার অস্তিত্বের দহন ও যাত্রাপথের এক কাব্যিক আখ্যান।
বৃষ্টির জলতেষ্টা এবং তার অস্তিত্বের দহন ও যাত্রাপথের এক কাব্যিক আখ্যান।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি—তাঁর কবি পরিচয় এবং সাহিত্যপ্রীতির দিকটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রেম, বিরহ এবং যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত এক কাব্যিক সংকলন, যেখানে মানুষের অন্তরের গভীরে লুকিয়ে থাকা কষ্ট ও আকুলতার কথা বলা হয়েছে।
হরপ্পা লিপির মতো দুর্বোধ্য তোমার মন প্রচলিত ব্যাকরণে তবু পাঠ করি, ভুল পাঠে বারেবারে প্রেম ভেঙে যায়—
শূন্যতা, বিরহ এবং যন্ত্রণার এক কাব্যিক বহিঃপ্রকাশ, যেখানে প্রিয়তমার অনুপস্থিতিতে আর্তনাদ ও মৃত্যুনাদের সুর ধ্বনিত হয়েছে।
যেভাবে সবাই ‘আসি’ বলে কেটে পড়ছে মেঘের ওপারে, তাতে মনে হয় বন্ধু বলে কেউ আর থাকবে না; অচিরেই সহমর্মিতার ঝাড়ে বাসা বাঁধবে ডেঁয়ো পিপড়া, লাল গিরগিটি!
আক্কা মহাদেবী যে রাজকীয় বস্ত্র ও অলংকার ত্যাগ করে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে যান এবং তাঁর দীর্ঘ কেশই ছিল একমাত্র আবরণ; এ নগ্নতা ছিল জাগতিক মোহ, সামাজিক লজ্জা ও পুরুষতান্ত্রিক কর্তৃত্ব থেকে মুক্তির শক্তিশালী প্রতীক। তাঁর এ পথ ছিল প্রচলিত সামাজিক ও ধার্মিক কাঠামোর প্রতি এক চ্যালেঞ্জ। তিনি ভিক্ষার অন্নে জীবন ধারণ করতেন এবং ভাঙা মন্দিরে রাত কাটাতেন। এভাবে তিনি ইন্দ্রিয়তৃপ্তি ও বৈষয়িক বন্ধন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতেন।
২০০৩ সালের ৮ জুলাই কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাঁর সাহিত্যকীর্তি আজও সমান জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক। সময় যত এগিয়েছে, ততই নতুন অর্থে ফিরে এসেছে তাঁর কবিতা। সমাজে যখনই শোষণ, অবিচার কিংবা ফ্যাসিবাদের অন্ধকার বিস্তার লাভ করেছে, তখনই প্রতিবাদী যুবসমাজ সাহস ও সংগ্রামের ভাষা খুঁজে পেয়েছে তাঁর কবিতায়। সুভাষ মুখোপাধ্যায় কেবল ২১ বছরের তরুণ পদাতিক-এর কবি নন; তিনি ছিলেন আজীবন সংগ্রামে অবিচল এক পথিক। তাঁর কবিতা শুধু একটি সময়ের রাজনৈতিক উচ্চারণ নয়, বরং ন্যায়, মানবমুক্তি ও প্রতিরোধের এক স্থায়ী কাব্যভাষা, যা যুগে যুগে মেহনতি মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি ও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জুগিয়ে যাবে। তাঁর বিখ্যাত কবিতার সেই অবিনশ্বর লাইন, যা চিরকাল মানুষের মনে আশার আলো জ্বেলে রাখবে: ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। শান-বাঁধানো ফুটপাথে পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে হাসছে।’ (ফুল ফুটুক না ফুটুক, ফুল ফুটুক)
ছাতার শহর, রাতের প্রহর, তোমার কেনা মিথ্যে শোকে ঘ্রাণ মিশে যায় গায়ে গায়ে যেমন চেনা অন্য লোকের মিলিয়ে গেছে, যায়নি পাওয়া তোমার গায়ের সমস্ত ঘ্রাণ একটা শহর ব্যস্ত তখন হারিয়ে যাওয়ার খুব অভিমান।
বেঁচে থাকার আতঙ্কে দিন কাটে বেঁচেই কেন থাকতে হবে ভাই? সমাজ এবং রাষ্ট্র ছেড়ে আমি আমার শিশুর সঙ্গে বাঁচতে চাই।
সীমান্তের ওপারে অস্ত্রধারী রক্ষীরা শত্রু ঠাওরে একদল নারী–পুরুষকে ঠেলে দিল সীমান্তের এপারে এপারে দণ্ডায়মান রক্ষীরাও প্রস্তুত ছিল, সাফ জানিয়ে দিল, ‘ওরা আমাদের কেউ নয় ’ চারপাশে প্রতিধ্বনি ওঠে—‘ওরা আমাদের কেউ নয়’।
গভীর আদিবাসী ছায়াবন সবুজ ছিঁড়ে উপড়ে ফেলেছে অনেক অভিবাসী মুঠি। পাহাড়ের কঙ্কাল পড়ে আছে বুকে লক্ষ দাঁতের দাগ–আঁচড় গাছে গাছে কুঠার ও কষ অদূরেই নয়া টাউনশিপ— মাটিতে ভরাট পথ রিসোর্ট বাজার নতুন কালভার্টে ঝিরি বুজে গেছে।
কেন আমি মরতে যাব, কেন সেধে মারা পড়ব সকালে সন্ধ্যায়। আমার ছোট্ট একটা প্রাণ, টুপ করে ঝরে পড়তে পারি। সে–ও এক মায়ের কোলেই ফেরা হবে। মায়ের জঠরে ছিলাম আমি, মৃত্যুরও জঠর আছে। মৃত্যুও মা আমার। যাকে কোনো দিন দেখিনি। জানি দেখব। প্রতিটা মুহূর্তে সে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। দেখা তো হবেই।
দেখাবে বিধৌত আর শোনাবে মরচে পড়া বিরহের জিয়নকাঠি প্রবাহিত ইচ্ছামাফিক ফিরে হই মরণকাঠি ঘিরে হই বিস্মরণের ভূমিষ্ঠকালীন ক্রিয়ার গোলাকার চিহ্ন এবং সবিশেষ বক্ররেখায় চেপে বসি নিয়মসিদ্ধ সমূহ বর্তুলাকার সে রেখায় বিদ্ধকারী
পীড়িত দুরন্ত পাখি সংশয়ে সাহস নিষ্প্রভ শূন্যতা! নিজস্ব স্রোতস্বতী একাকী লুকোচুরি— অদ্ভুত ভুতুড়ে খাঁচা ভেঙে দুর্বার জলযান।
চাইছিলাম রিমঝিমকে; চাইছিলাম সীমাকে সীমা আটকে আছে কাঁটাতারের বেড়াতে রিমঝিম সে–ও ভুলতে পারছে না স্মৃতির মানুষটাকে
<p>নীড়ে ফেরা বাদুড়ের ঝাঁকে শুকতারা ঠিকানা হারায়<br>এ বড় কঠিন কাল, হিম ঝরে মধ্যরাতে বিছানায়<br>শিশু হিসু ক’রে পাশ ফেরে, নারী শোনে<br>পরাবাস্তব কড়ানাড়া<br>থেমে গেছে দূরের কাড়া-নাকাড়া।<br><br>শিয়ালেরা...
কবিতার সংজ্ঞা, উত্তরবঙ্গের মঙ্গা।কবিতার মূল্য, রাধার রজনীতুল্য।কবিতার সত্য, শিয়রে নার্সের ছায়া, পথ্য।কবিতার দুঃখ, যে জীবন নিবু নিবু, তারও জীবনই মুখ্য।সেই কবিতার সঙ্গে, একত্রিত অতীতের উপহার: গত...
অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান। গ্রাফিকস: মুক্তকণ্ঠ
যারা গেল, ধরে নিই তারা আসেইনি কখনোমেঘের কাপ্তান খুলে বৃষ্টি এল, টিলার উপরে।কেবল বৃষ্টি-ই।নৌকার নাভিতে বাঁধা সান্ধ্যদীপ কেঁপে যায়দুঃখের সার পেয়ে ভাঙে যদি অক্ষরের ধ্যান,তাকে দেব বেদনার সমগ্র...
বয়স বাড়লে শরীর ছাড়লেঘর থাকে পরিপাটি, ডাক দেয় মাটি।আমাদের জন্মের আগেওমহুয়ার ছায়া, টগর, মগরা, মাছরাঙা ছিল।প্রকৃতির নিরুত্তর মাঠেঅনাদিকালের হাওয়ায়মৌন পৃথিবীর পাড়ে ওরাই থাকবে।সুরমার লঞ্চঘাটে মনপ্রাণ,...
কবেকার শূন্যোদ্যানেআজ রাতে চাঁদ গেছে থেমেশ্বেতকায় পারাবত-মেঘনেবুচাদনেজারের প্রেমেআমাদেরও প্রেম ছিল নাকি?নিভৃতে কোথাও কোনো ঘর?ঘাসে ঘাসে ছেয়ে গেছে সেইফেলে আসা লোহার বাসরপরাগদণ্ডে ছিল সাপকুণ্ডলে...
কথা রয়ে গেছে বলে এই গোধূলিতেসুদূর তোমার প্রতি ঝুঁকে ঝুঁকে হয়ে যাই সারাআর সবই নিজ গানে মগ্ন, অবিরামচোখের সামনে আজ কত জনপথ ডুবে যায়ছিল সরব উত্থান, ছিল সহৃদয় গান,মনে মনে মসনবি, রুবাই, সনেট,মর্সিয়া,...
<p>গোধূলির ডাকবাক্স খুলে<br>দূর থেকে উড়ে এল যেন সেই চিঠি<br>কুহক ছড়ানো খামে—<br><br>জমে থাকা ভাঁজপত্র থেকে বের হলো<br>জেগে ওঠা পুরোনো বিষাদ;<br>চিঠিটিতে তুমি লিখেছিলে<br>প্রেম কিছু নয় কেবল একটা...