পরকালে শয়তান যেভাবে দায়মুক্তি ঘোষণা করবে
সে নিজের দায় অস্বীকার করে বলবে, সে কাউকে জোর করেনি; শুধু ডেকেছে, আর মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়েছে। কোরআন সেই ভয়াবহ দৃশ্যের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
সে নিজের দায় অস্বীকার করে বলবে, সে কাউকে জোর করেনি; শুধু ডেকেছে, আর মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়েছে। কোরআন সেই ভয়াবহ দৃশ্যের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
কোরআন পাঠকালে মুমিনের আসল উদ্বেগ হওয়া উচিত, কীভাবে এই কিতাব আমাকে হেদায়েত দেবে, কীভাবে আমি আল্লাহর প্রিয় কোরআনের মানুষে পরিণত হব।
এই একটি হাদিস ধর্মের যাবতীয় বিধান নিজের ভেতর ধারণ করেছে। সুরা ফাতিহা যেমন ‘উম্মুল কুরআন’, ঠিক তেমনি হাদিসে জিবরাইলকে বলা যেতে পারে ‘উম্মুস সুন্নাহ’।
তিনি প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি। বরং উত্তর দিলেন, ‘আমি আশা করি, আল্লাহ এদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন এক প্রজন্ম সৃষ্টি করবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে।’
ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘শরিয়া’ শব্দের আভিধানিক অর্থ, মরুভূমিতে প্রবাহিত স্বচ্ছ পানির উৎস বা ঝরনাধারা, যেখান থেকে তৃষ্ণার্ত মানুষ ও প্রাণী জীবন ধারণের উপকরণ সংগ্রহ করে।
এর হলোগ্রাফিক বিন্যাস প্রমাণ করে যে কোরআন প্রচলিত সাহিত্যিক ছকে বন্দি নয়; বরং এটি এক জীবন্ত জ্ঞানতাত্ত্বিক রূপরেখা, ইতিহাসে যার দ্বিতীয় নজির নেই।
একজন মুমিন যখন কোনো বৈধ কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করেন এবং সে কাজে ইসলামের বিধান মেনে চলেন, তখন সেই কাজও সওয়াবের কারণ হতে পারে।
মানুষ ও জিন তো বটেই, অন্যান্য প্রাণীও ছিল যার অধীনস্থ। এই বিশাল সাম্রাজ্যের মাঝে ডুবে থেকেও তিনি আল্লাহকে ভুলে যাননি।
নারী প্রতি অতিরিক্ত সমবেদনা অনুভব করা কি ইসলামের দৃষ্টিতে পাপের কারণ? পুরুষবিদ্বেষ এড়িয়ে শুধু নারীর সুরক্ষায় ব্যথিত হওয়াকে ইসলামি নীতিশাস্ত্র কীভাবে মূল্যায়ন করে?
পোশাক শরীর ঢেকে রাখে, রক্ষা করে, সুন্দর করে তোলে। স্বামী-স্ত্রীও একে অপরের জন্য তেমনই। নিজেদের দোষ-ত্রুটি বাইরে প্রকাশ না করে না পোশাক।
অভিভাবকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা, সামাজিক মর্যাদার মোহ এবং নিজের সহজাত ভালোলাগার টানাপোড়েনে উচ্চশিক্ষার পাঠ্যবিষয় ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নির্বাচন কঠিন হয়ে পড়ে।
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষের বিভিন্ন শ্রেণির যে সূক্ষ্ম চরিত্রচিত্রণ তিনি তুলে ধরেছেন, তা মানবচৈতন্যকে নাড়া দেওয়ার মতো এক অতুলনীয় আধ্যাত্মিক দর্পণ।
মানুষের মর্যাদাই মূল বিবেচনা। ফলে চুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তার সঙ্গে মানুষের দেহের অংশ হিসেবে যে সম্মানের সম্পর্ক ছিল, তা পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায় না।
খলিফা ওমরের আমলে সংঘটিত দুটি যুদ্ধ ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল—প্রথমটি ইরাকের মাটিতে সংঘটিত ‘কাদিসিয়ার যুদ্ধ’; আর দ্বিতীয়টি ইরানের পাহাড়ি প্রান্তরের ‘নাহাওয়ান্দ’।
পিপাসায় কাতর মানবজাতি যখন একটু শীতল পানির জন্য ব্যাকুল থাকবে, তখন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীজির উম্মতের জন্য অপেক্ষা করবে এক অনন্য নেয়ামত—হাউসে কাউসার।
‘আসহাবে কাহাফ’ মানবজাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তের এক শাশ্বত মনস্তাত্ত্বিক পাঠ—কীভাবে নিরেট তাওয়াক্কুল ও অবিচলতা প্রতিকূলতম পরিস্থিতিকেও স্বর্গীয় শান্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
তিনি ছিলেন মদিনার আলেম। সম্মান করে তাঁকে বলা হতো হিজরতের শহরের ইমাম। তিনি মদিনার ফিকহি ঐতিহ্যের প্রধান রূপকার এবং মালেকি মাজহাব’-এর প্রতিষ্ঠাতা।
প্রকৃতি তখন মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, আবার মানুষের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন দৌলতও নয়। মানুষ তার শুধু ভোক্তা নয়; সে খলিফা। আর খিলাফতের অর্থ আধিপত্য নয়; আমানতদারি।
চিকিৎসাবিজ্ঞান, মহাকাশ অভিযান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি দেখে অনেকে সদম্ভে ঘোষণা করছে, ‘মানুষ আজ প্রকৃতিকে জয় করেছে, এখানে স্রষ্টার আর কোনো ভূমিকা নেই!’
কেউ তার গাড়ি আপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহারের অনুমতি দিলেন। এর অর্থ এই নয় যে আপনি গাড়িটি অন্য কাউকে দিয়ে দিতে পারবেন, নিজের ইচ্ছামতো অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারবেন
কীভাবে একটি সাধারণ যাত্রাকে বরকতময়, নিরাপদ ও মহা সওয়াবের ইবাদতে রূপান্তর করা যায়, নবীজি নিজের সুন্নতের মাধ্যমে তার রূপরেখা দিয়ে গেছেন।
তার মধ্যে প্রবৃত্তি, কামনা ও দুর্বলতাও রাখা হয়েছে। তার জীবন তাই নিজের ভেতরের ভালোকে জাগিয়ে তোলা এবং মন্দ প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করার এক অবিরাম সাধনা।
অনেকে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা মনের ভেতর গোপন রাখাকেই পৌরুষের লক্ষণ মনে করেন। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) ভালোবাসা প্রকাশে ছিলেন অকপট।
মানবদেহের বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যত সুস্থ ও সবলই হোক না কেন, তার হৃদয় যদি অনুভূতিহীন ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, তবে সেই মানুষটির সমগ্র জীবনই পথভ্রষ্ট হয়ে যায়।