হজ কবুল হয়েছে কি না বুঝবেন যেভাবে
যদিও হজ কবুল হওয়া বা না হওয়া সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ-তাআলার এখতিয়ারভুক্ত, তবে যদি কবুল হয়, তবে বাহ্যিকভাবে জীবনে ইতিবাচক কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়।
যদিও হজ কবুল হওয়া বা না হওয়া সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ-তাআলার এখতিয়ারভুক্ত, তবে যদি কবুল হয়, তবে বাহ্যিকভাবে জীবনে ইতিবাচক কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়।
আল্লাহর হুকুমের সামনে ব্যক্তিগত ইচ্ছা, আবেগ ও যুক্তি গৌণ। ইবাদতের পেছনের সব রহস্য মানুষের বোধগম্য না হলেও মুমিন তা পালন করেন আল্লাহর আদেশ হিসেবে।
হজের খুতবায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিশ্বশান্তির জন্য দোয়া করা হয়েছে।
প্রেমময় এই হজ মুমিনের আজন্ম লালিত স্বপ্ন। একজন মুমিন সারাজীবন পবিত্র কাবার সান্নিধ্য পাওয়ার স্বপ্ন লালন করে যায়।
যিনি তাৎক্ষণিক বা জরুরি ঋণে জর্জরিত এবং পাওনাদার টাকা চাচ্ছে, তার জন্য কোরবানির টাকা জমিয়ে না রেখে আগে ঋণ শোধ করা ফরজ। ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করাকে জুলুম।
লাখো মানুষ একই রঙে, একই ঢঙে একই খোদার সমীপে হাজির হন। এই মহামিলনের পেছনে যে অন্তর্নিহিত চেতনা কাজ করে, তা হলো প্রকৃত আধ্যাত্মিকতা এবং নিখাদ বিশ্বভ্রাতৃত্ব।
কাবার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ উপলব্ধি করে, এই দুনিয়ার সমস্ত গৌরব, অহংকার ও কৃত্রিমতা কত ক্ষণস্থায়ী! সেখানে মানুষ শুধু আল্লাহর বান্দা হিসেবেই পরিচিত।
হাজার বছর ধরে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন উম্মাহর কত মুফাসসির, কত মুহাদ্দিস, কত ইমাম, কত মুজতাহিদ, কত অলি-আউলিয়া! কত কান্না ছড়িয়ে আছে আরাফার বাতাসে!
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে গভীর করতে একে অপরকে উপহার প্রদান ও ভালোবেসে ব্যয় করা অত্যন্ত বরকতময়। স্ত্রীকে খুশি করতেস্বামী যা ব্যয় করে, তাতেও সদকার সওয়াব নিহিত।
আমরা যারা হজে যাওয়ার সামর্থ্য রাখি না, তারা চাইলে এই আমলগুলোর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও হজের সওয়াব অর্জন করতে পারি।
জিলহজের প্রথম দশকের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে জিলহজের প্রথম ১০ রাতের কসম করে এই দশকের গুরুত্ব মহিমান্বিত করেছেন,
রমজান মাস যেমন ইবাদতের মাস, তেমনি দিনের মধ্যে রমজান ব্যতীত বছরের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর অন্যতম হলো জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন।
সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিমের ওপর জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ। হজের প্রস্তুতি ও আরকান-আহকাম নিয়ে পাঠকদের জরুরি কিছু জিজ্ঞাসার সমাধান দেওয়া হলো।
হজ যাত্রায় ছোট ছোট সতর্কতা পালন করলে মক্কা-মদিনায় চলাফেরা ও ইবাদত সহজ হয়। নুসুক কার্ড থেকে শুরু করে গরম সুরক্ষা, জুস পান, জুতা-ওষুধের ব্যবহারসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস এখানে। অসতর্কতায় বড় বিপদ এড়াতে এগুলো মেনে চলুন।
হজে সর্দি-কাশি, পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যা থেকে বাঁচতে পানি পান, খাবার সতর্কতা ও ওষুধ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মক্কা-মদিনায় বাংলাদেশ মেডিকেল সেন্টারের যোগাযোগ নম্বরও জানানো হয়েছে। সুস্থ থেকে ফরজ কাজ পালনই মূল লক্ষ্য।
ঘুমানোর আগে অজু করলে ফেরেশতার সঙ্গ, শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপত্তা, মৃত্যুর প্রস্তুতি এবং শারীরিক-মানসিক উপকার পাওয়া যায়। রাসূল (সা.) এর উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং হাদিসে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এই সহজ সুন্নাহ জীবনে অভ্যাস করা উচিত।
অনেক সময় সায়ি করার সময় মানুষ ছবি তোলা বা ভিডিও করায় মগ্ন হয়ে পড়ে, যা ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট করে। এসব পরিহার করে হজের মূল উদ্দেশ্যের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।
আপনার কি মনে হয় কোনো বিশেষ পরিবেশ বা অভ্যাস আপনাকে বারবার একই ভুল করতে বাধ্য করছে? সেটি চিহ্নিত করা হতে পারে আপনার পরিবর্তনের প্রথম ধাপ।
অনেকেই মক্কায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ওমরাহর জন্য এতই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি বা বিশ্রামের কথা ভুলে যান। এর প্রয়োজন নেই।
এখন জিলকদ মাস চলছে। মহানবী (সা.) হিজরতের পর মোট চারবার ওমরাহ পালন করেছেন। বিভিন্ন হাদিসে দেখা যায়, তাঁর প্রতিটি ওমরাহ জিলকদ মাসেই সম্পন্ন হয়েছে।
তাওয়াফ শুরুর আগে পুরুষদের ইহরামের পোশাকে বিশেষ পরিবর্তন আনতে হয়। ইহরামের ওপরের অংশ বা চাদরটি ডান বগলের নিচ দিয়ে এনে বাঁ কাঁধের ওপর রাখতে হয়।
রাসুল (সা.) বলেছেন, তিনি তাঁর উম্মতের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয় পান ছোট শিরক—বিশেষ করে ‘রিয়া’কে (লোকদেখানো ইবাদত)। কারণ, এটি মানুষের অন্তরকে ধ্বংস করে দেয়।
কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত নামাজের গুরুত্ব এবং এর মাধ্যমে পাপ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। নবীজি (সা.)-এর উদাহরণসহ নামাজের প্রভাব ও খুশু-খুজুরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সঠিকভাবে আদায় করা নামাজ জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
ইমাম ইবনুল কাইয়িম বিষয়টি জোরালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, অজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং শেষে শাহাদত পাঠ ছাড়া মাঝখানে কোনো বিশেষ দোয়া পড়া সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।