নিয়ামত কেন হারিয়ে যায়, কীভাবে ধরে রাখব
অনেক সময় নিয়ামত স্বাভাবিক বিষয় মনে করে যে এগুলোর প্রকৃত মূল্যই উপলব্ধি করি না। অথচ এসব নিয়ামত কত দিন থাকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
অনেক সময় নিয়ামত স্বাভাবিক বিষয় মনে করে যে এগুলোর প্রকৃত মূল্যই উপলব্ধি করি না। অথচ এসব নিয়ামত কত দিন থাকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আল্লাহর ভয় মানে সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকা নয়। এর অর্থ হলো, আল্লাহ আমাকে দেখছেন, তিনি আমার কথা ও কাজ জানেন এবং তাঁর অবাধ্যতার জবাবদিহি আমাকে করতে হবে।
‘আল্লাহ বোধহয় আমাকে আর ক্ষমা করবেন না’, ‘আমার দ্বারা ভালো কিছু সম্ভব নয়’—জীবনের কঠিন সময়ে এমন হতাশা আমাদের অনেকের মনেই ভর করে।
দৃশ্যমান এই বিশ্বজগতের বাইরে এক পরম পবিত্র, নিষ্কলুষ ও পরাক্রমশালী জগৎ রয়েছে, যার বাসিন্দারা হলেন মহান আল্লাহর অনন্য সৃষ্টি ‘মালাইকা’ বা ফেরেশতাকুল।
ইমান অর্থ বিশ্বাস, ইসলাম মানে আনুগত্য। মুমিন বিশ্বাসী ব্যক্তি, মুসলিম অনুগত বান্দা। ইমান হলো আল্লাহ, রাসুল ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস। ইসলাম হলো বিশ্বাসের সঙ্গে নামাজ, জাকাত, রোজা ও হজ পালন করা।
নফসে আম্মারা তথা ষড়্রিপু এবং জিন, শয়তান ও মানবশয়তান মানুষকে পাপের কাজে প্ররোচিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘শয়তান আদমসন্তানের অন্তরে ওত পেতে থাকে।
মুমিনের জীবনের অন্যতম প্রধান সাধনা হওয়া উচিত আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করা। হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা এসেছে।
ইহলোকে জন্ম ও জীবন, মৃত্যু ও পরকাল—সবই আল্লাহর আনুগত্যের পরীক্ষার অংশ; কোরআনের আলোকে ইবাদত, তাকওয়া, ইমান ও ইখলাসের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। লেখক: অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
আল্লাহকে ভুলে গেলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। যে জীবনকে আল্লাহ আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে দিয়েছেন, সেটিই তখন চূড়ান্ত গন্তব্য বলে মনে হয়।
সে কখনোই মানুষকে সরাসরি গিয়ে বলে না যে ‘তুমি পাপ করো’। বরং সে পাপের কাজকে কল্যাণকর ও সাময়িক প্রয়োজন হিসেবে উপস্থাপন করে মানুষকে ধোঁকা দেয়।
পরিবর্তনের জন্য প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে, এমনটাই জানাচ্ছে পবিত্র কোরআন। আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী, নিজের অবস্থার পরিবর্তন না করলে জাতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।
জীবন আল্লাহর দান—এই উপলব্ধি থেকে সমাজ পরিবর্তনে তরুণ ও যুবসমাজের দায়িত্ব, যৌবনের মর্যাদা এবং কিয়ামতে জবাবদিহির প্রসঙ্গ তুলে ধরেছে মতামতধর্মী লেখা।
জীবনের প্রতিটি ঘটনা কি আগে থেকেই নির্ধারিত, নাকি কাজের ক্ষেত্রে আমাদের স্বাধীনতা আছে? যদি নির্ধারিত থাকে, তবে ভালো বা মন্দের জন্য মানুষকে কেন দায়ী হবে?
আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশ্বজনীন আহ্বান আছে, নিজের জীবনকে তাঁর কাছে সমর্পণ করার আহ্বান। জীবনের ভেতরে তাঁকে অনুভব করতে হলে ৪টি কথা মনে রাখতে হবে।
মহান আল্লাহ–তাআলা মানুষ সৃষ্টি করার আগেই তার রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন—এ আলোকে নবজাতকের মাতৃদুগ্ধ পানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
আল্লাহর অসংখ্য নামের মধ্যে কোন নামে তাঁকে ডাকবেন, কোন নামের তাৎপর্যই–বা কী। মনের ভেতরে অনেক কথা জমে আছে—বলতে চান,
ইসলামে সবর বা ধৈর্য মানে আদেশে অবিচল থাকা, পাপ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা।
আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে অদৃশ্য সম্পর্ক তৈরি করে। তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম হয় এবং মানুষ সরল ও সঠিক পথে অবিচল থাকার শক্তি অর্জন করতে পারে।
লোকদেখানো উদ্দেশ্যমুক্ত হয়ে শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা। বাহ্যিকভাবে দুজন মানুষ একই কাজ করলেও নিয়তের পার্থক্যের কারণে আল্লাহর কাছে তাঁদের মর্যাদা বদলে যায়।
যেসব অভ্যাস মুমিন ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়, লোক সমাজে তার সম্মান-মর্যাদা ক্ষুন্ন করে তা পরিহার করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।
বর্তমান বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটার কারণ এবং এর ধর্মীয় তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী।
রাতের সেই নিস্তব্ধ অন্ধকারে আল্লাহ–তাআলা আসমান থেকে ডাকছেন। ‘কে আছ যে আমাকে ডাকবে? আমি সাড়া দেব। কে আছ যে চাইবে? আমি দেব—যা চাইবে তা-ই।’
পার্থিব প্রতিযোগিতার এই যুগে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো নিজেকে জিজ্ঞেস করা—আমি কিসের পেছনে ছুটছি? মানুষের প্রশংসা, নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টি?
মানবচরিত্রের ‘গিবত’ ও ‘তুহমাত’—পরনিন্দা ও অপবাদের পরিণতি এবং ইসলামি নির্দেশনা ও হাদিসের আলোকে আলোচনা।