বিপরীত লিঙ্গের প্রতি নিষিদ্ধ আকর্ষণ: আত্মশুদ্ধির পথ কী
কোনো যুগল যখন ইসলামের নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে বিবাহবহির্ভূত ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়ে পড়ে, তখন অন্তরে জন্ম নেয় তীব্র আত্মগ্লানি ও মানসিক অস্থিরতা।
কোনো যুগল যখন ইসলামের নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে বিবাহবহির্ভূত ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়ে পড়ে, তখন অন্তরে জন্ম নেয় তীব্র আত্মগ্লানি ও মানসিক অস্থিরতা।
প্রকৃতি তখন মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, আবার মানুষের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন দৌলতও নয়। মানুষ তার শুধু ভোক্তা নয়; সে খলিফা। আর খিলাফতের অর্থ আধিপত্য নয়; আমানতদারি।
চিকিৎসাবিজ্ঞান, মহাকাশ অভিযান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি দেখে অনেকে সদম্ভে ঘোষণা করছে, ‘মানুষ আজ প্রকৃতিকে জয় করেছে, এখানে স্রষ্টার আর কোনো ভূমিকা নেই!’
একজন মানুষ কীভাবে কথা বলে, শব্দ নির্বাচনে কতটা সতর্ক থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় আলাপে কতটা সংযম বজায় রাখে, তা দিয়েই নির্ধারিত হয় তার আত্মিক গভীরতা ও চরিত্রের মান।
আল্লাহর ভয় মানে সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকা নয়। এর অর্থ হলো, আল্লাহ আমাকে দেখছেন, তিনি আমার কথা ও কাজ জানেন এবং তাঁর অবাধ্যতার জবাবদিহি আমাকে করতে হবে।
কোনো মা-বাবা যদি সন্তানকে দিনভর সত্য কথা বলার উপদেশ দেন, অথচ নিজেরা কথায় কথায় মিথ্যা বলেন—তবে শিশুর চোখে সেই উপদেশের কোনো মূল্য থাকে না।
একজন মানুষের চরিত্র বোঝার অন্যতম বাস্তব ক্ষেত্র হলো তার প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ। কারণ, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চরিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
‘আল্লাহ বোধহয় আমাকে আর ক্ষমা করবেন না’, ‘আমার দ্বারা ভালো কিছু সম্ভব নয়’—জীবনের কঠিন সময়ে এমন হতাশা আমাদের অনেকের মনেই ভর করে।
দৃশ্যমান এই বিশ্বজগতের বাইরে এক পরম পবিত্র, নিষ্কলুষ ও পরাক্রমশালী জগৎ রয়েছে, যার বাসিন্দারা হলেন মহান আল্লাহর অনন্য সৃষ্টি ‘মালাইকা’ বা ফেরেশতাকুল।
হেদায়েত আল্লাহ–তাআলার এক বিশেষ দান। যে অন্তর সততা, খোদাভীতি ও বিনয় নিয়ে কোরআনের মুখোমুখি হয়, শুধু সে অন্তরই কোরআনের আলোয় উদ্ভাসিত হতে পারে।
যেখানে পাপকর্মে লিপ্ত হওয়ার সব সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধু আল্লাহর ভয়ে নিজেকে সংযত রাখা এবং প্রবৃত্তির চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়াই হলো খাঁটি মুত্তাকির বৈশিষ্ট্য।
আমাদের অসংখ্য ত্রুটিবিচ্যুতি মানুষের দৃষ্টি থেকে আল্লাহ আড়াল করে রেখেছেন। নাহলে অন্যের দিকে আঙুল তোলার সাহস আমাদের কারও থাকত না।
পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সুরা ‘আল-বাকারা’-তে মানব ইতিহাসের এমন অনেক সংকট ও তার সমাধানমূলক শিক্ষা ছড়িয়ে রয়েছে, যা সুদৃঢ় বিশ্বাস অর্জনে আমাদের সহায়তা করবে।
মুমিনের জীবনের অন্যতম প্রধান সাধনা হওয়া উচিত আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করা। হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা এসেছে।
পরকালের চিরন্তন সফলতা নির্ভর করে দুনিয়ার জীবনে সম্পাদিত সৎকর্মের ওপর। তাই প্রয়োজন ইহজীবন ও পরজীবনের মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখা।
আমরা তথ্য ও জ্ঞানকে এক করে ফেলছি। ইসলামে জ্ঞান অর্জন শুধু মস্তিষ্ককে তথ্যে সমৃদ্ধ করার বিষয় নয়; বরং তা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের প্রধানতম আত্মিক মাধ্যম।
সে কখনোই মানুষকে সরাসরি গিয়ে বলে না যে ‘তুমি পাপ করো’। বরং সে পাপের কাজকে কল্যাণকর ও সাময়িক প্রয়োজন হিসেবে উপস্থাপন করে মানুষকে ধোঁকা দেয়।
কখনো না বুঝে, কখনো অসচেতনতায়, আবার কখনো মনস্তাত্ত্বিক প্ররোচনায় আমরা এমন কিছু করে ফেলি, যার জন্য পরবর্তী সময় গভীর অনুশোচনা জাগে।
আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশ্বজনীন আহ্বান আছে, নিজের জীবনকে তাঁর কাছে সমর্পণ করার আহ্বান। জীবনের ভেতরে তাঁকে অনুভব করতে হলে ৪টি কথা মনে রাখতে হবে।
নবীদের দোয়াগুলো পাশাপাশি রাখলে একটা মিল চোখে পড়ে। তাঁরা কেউ দীর্ঘ আরজি করেননি। শুধু নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে অপেক্ষা করেছেন আল্লাহর সাহায্যের।
ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যার জ্ঞানতত্ত্ব অনুযায়ী সত্যের উৎস এক এবং সব সহি জ্ঞান অবশেষে একই হাকিকতের দিকে অগ্রসর হয়; এই প্রেক্ষাপটে সত্যের মানদণ্ড ও যাচাইকরণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা।
বিপদ–মুসিবত এলে, যখন বাহ্যিকভাবে মুক্তির কোনো উপায় চোখে পড়ে না। তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, আল্লাহ কি আমার ওপর অসন্তুষ্ট?
ভৌগোলিক বা শারীরিকভাবে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের নির্দিষ্ট সময় ও ফজিলত অতীত ইতিহাসে পূর্ণতা পেলেও, হিজরতের আত্মিক দরজা কিন্তু কেয়ামত পর্যন্ত খোলা রয়েছে।
ইসলামে সবর বা ধৈর্য মানে আদেশে অবিচল থাকা, পাপ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা।