শিল্পচর্চার সঙ্গে যেন রাষ্ট্র থাকে
আমরা বিশ্বাস করি, শিল্পচর্চা খারাপ দিক বয়ে আনতে পারে না। এই জায়গা যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়।
আমরা বিশ্বাস করি, শিল্পচর্চা খারাপ দিক বয়ে আনতে পারে না। এই জায়গা যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়।
‘মায়া’ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বুয়েটের শিক্ষার্থীদের কাজগুলোতে লক্ষ করা যায় একধরনের নিয়ন্ত্রিত আবেগ—যেখানে কম্পোজিশন সচেতন, ফর্ম সংযত এবং ভাবনা স্পষ্ট।
শিল্পকর্ম আমাদের পাপ, এটা কি অন্যায়, শিল্পচর্চা করে কি আমরা অপরাধী? ভয় ও শঙ্কার মধ্যে থাকতে হবে, এই বুঝি আমায় ধরল, মারল।’
কসমস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘কসমস আর্ট ইকো’ শিল্পচর্চা ও সামাজিক বাস্তবতার উদ্বোধনী আলোচনায় শিল্পীর অভিজ্ঞতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একমাত্র পরিচালিত চলচ্চিত্র নটীর পূজা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু জীবনের শেষ পর্বে কেন তিনি চলচ্চিত্রের দিকে ঝুঁকলেন, সেই প্রশ্নটি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত। তাঁর প্রবন্ধ, চিঠিপত্র এবং শেষ জীবনের শিল্পচর্চার আলোকে এই নিবন্ধে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।
শিল্পের ইতিহাসে শরীর কেবল জৈবিক উপস্থিতি নয়, বরং স্মৃতির ধারক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র। বুবলী বর্ণার সাম্প্রতিক শিল্পচর্চায় মাতৃত্বের মাধ্যমে শরীরের পরিবর্তন, পরিচয়ের রূপান্তর এবং অদৃশ্য শ্রমের প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে।
শিল্পী জাকিয়া খান চন্দনার তৃতীয় একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘অবচেতন মনের বাস্তবতা’ সমসাময়িক বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন। ৩ জুলাই শুক্রবার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী শিল্পীর দীর্ঘদিনের সুররিয়ালিস্ট অন্বেষণের একটি পরিণত রূপ। চন্দনার চিত্রকর্মে অবচেতন মন কেবল একটি মনস্তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং একটি দৃশ্যমান পরাবাস্তববাদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তার ক্যানভাসে ভেসে ওঠে স্বপ্ন, স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা ও আত্মপরিচয়ের জটিল স্তর, যা বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখাকে ভেঙে দেয়। এই প্রবণতা স্বভাবতই আমাদের মনে করিয়ে দেয় বিশ্বখ্যাত সুররিয়ালিস্ট শিল্পী সালভাদর দালির কথা, যিনি অবচেতন মনের চিত্রায়ণকে শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছিলেন।
বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্পচর্চায় আজ একদিকে রয়েছে বাস্তবানুগ বা ফটোগ্রাফিক দক্ষতার প্রতি প্রবল আকর্ষণ, অন্যদিকে রয়েছে প্রকৃতি ও বাস্তবতাকে আত্মস্থ করে সেটিকে নতুন নন্দনভাষায় রূপ দেওয়ার প্রবণতা। রাজধানীর গ্যালারি কায়ার ২২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ দলগত প্রদর্শনীটি দ্বিতীয় প্রবণতার এক বিস্তৃত ও তাৎপর্যপূর্ণ মানচিত্র হাজির করেছে। প্রদর্শনীতে ৪৫ জন আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্পীর ৭৩টি নির্বাচিত শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। ১৯৫৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় সাত দশকের শিল্পযাত্রাকে একত্র করেছে এই আয়োজন।
‘যিনি নাটককে দেখতেন জীবনের অংশ হিসেবে, আর শিল্পচর্চাকে মনে করতেন মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা।’