দক্ষিণাঞ্চলে নদীর পর গভীর নলকূপের পানিতেও লবণাক্ততা
দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলের অনেক নদীতে লবণাক্ততার মাত্রা সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে গেছে আগেই।
দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলের অনেক নদীতে লবণাক্ততার মাত্রা সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে গেছে আগেই।
পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার মতো ঝুঁকি বাড়ার কথা বলেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানান।
সংলাপে অংশ নেওয়া নারীরা জানান, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানির সংকট, জীবিকার অনিশ্চয়তা ও ঘন ঘন দুর্যোগ তাঁদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।
প্রতিবছর ১৬ মে এলে একটি নাম অবধারিতভাবে সামনে আসে—ফারাক্কা। এটি শুধু একটি বাঁধের নাম নয়, এটি বাংলাদেশের নদী, কৃষি, অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রতীক। এই দিনটিতে কিছু আলোচনা হয়, কিছু স্মৃতিচারণা হয়, তারপর বিষয়টি আবার আড়ালে চলে যায়। অথচ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মরণাপন্ন নদীগুলো, সুন্দরবনের ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, কৃষির ক্ষয়ক্ষতি—সবকিছুর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে ফারাক্কার সম্পর্ক জড়িয়ে আছে।
আজ বুধবার একনেক সভায় ৩৪,৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। জুলাই থেকে কাজ শুরু হবে এবং ২০৩৩ সালের জুন মাসে শেষ হবে। এতে পানির সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি লবণাক্ততা নিরসন ও উৎপাদন বৃদ্ধি হবে।
কক্সবাজারের পেকুয়ার করিয়ারদিয়া দ্বীপে সাড়ে তিন হাজার মানুষের নেই নিরাপদ যোগাযোগ, বিশুদ্ধ পানি বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ একমাত্র আশ্রয়কেন্দ্রে জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্ক। জলবায়ু পরিবর্তনে লবণাক্ততা বাড়ছে, কৃষি উৎপাদন কমছে।
উপকূলীয় বাংলাদেশের প্রকৃতি কখনোই একমাত্রিক নয়; এখানে নদী, খাল, জোয়ার-ভাটা, লবণাক্ততা, পলি ও জীববৈচিত্র্য এক জটিল কিন্তু সুনিয়ন্ত্রিত ছন্দে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।
খুলনার কয়রা উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ৯৭ শতাংশ পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার কারণে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গবেষণায় লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
খুলনার কয়রায় মাকসুদা খাতুন লবণাক্ততায় সবজি চাষে ব্যর্থ হলেও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের প্রকল্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাটিবিহীন এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করেন।
পরিবেশকর্মীদের মতে, লবণাক্ততার বিস্তার, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, বৃষ্টির অভাব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি প্রতিবছরই জটিল হচ্ছে।
খুলনার কয়রায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর থেকে লবণাক্ততায় ভূগর্ভস্থ পানি খাওয়া যায় না, মানুষ পুকুরের পানি কিনে বা কাঁধে বয়ে খাচ্ছে। পরিবারের আয়ের ২০-২৫ শতাংশ পানিতেই খরচ হচ্ছে।