
প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার কমিশন ‘সরকারের কর্তৃত্বাধীন’ হবে: টিআইবি
প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার কমিশন সরকারের কর্তৃত্বাধীন হবে বলে টিআইবির উদ্বেগ।

প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার কমিশন সরকারের কর্তৃত্বাধীন হবে বলে টিআইবির উদ্বেগ।

অন্তর্বর্তী সরকার আমলে করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন বাতিলের পর বিএনপি সরকার এখন যে আইন করতে যাচ্ছে, তাতে কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হওয়া আশঙ্কা দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

মানবাধিকার কমিশনের শক্তিশালী আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইনমন্ত্রী।

একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে রাজনৈতিক সরকারগুলো তো বটেই, অন্তর্বর্তী সরকারও তাদের সন্দেহাতীত অঙ্গীকার দেখাতে পারেনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন এবং খোলাচিঠি লিখেছেন। কমিশনের সচিব বলেছেন, এতে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়েছে। বিদায়ী সদস্যরা ধোঁয়াশায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংসদে বাতিলের পর পুরোনো আইন পুনর্বহাল হয়েছে। এতে কমিশনের ক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা হ্রাস পাবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ। বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগের আইনে ফেরার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনে সরকারের প্রভাব বাড়বে।

জাতীয় সংসদে বিরোধী এনসিপি সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের উত্থাপিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহাল হয়। হাসনাত রাজনৈতিক দমনের অস্ত্র হিসেবে এর ব্যবহারের আশঙ্কা জানান।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের নিয়োগ প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশেক-ই-রসুল হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন। অধ্যাদেশের ৬ ও ৭ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে রিটের শুনানি হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ স্থগিতের সুপারিশে ক্ষুব্ধ টিআইবি। এই অধ্যাদেশগুলো হুবহু বিল করে সংসদে পেশের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা দেখছেন।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সংসদে পাস করার দাবি জানিয়েছে। সাভারে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগণের সঙ্গে সরকারের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরে তারা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাগ্য প্রকাশ, ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

জাতিসংঘের ১৯৯৩ সালের প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি দেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি স্বাধীন নজরদারি ও অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান।