
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিকে ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে দেখছেন ইসরায়েলি ডানপন্থীরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তিচুক্তির ঘোষণা ইসরায়েল মোটেও সহজভাবে নেবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তিচুক্তির ঘোষণা ইসরায়েল মোটেও সহজভাবে নেবে না।

ওই সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন মিসরকে একটি তথ্য দেয়। তারা দাবি করে, ইসরায়েল সিরিয়ার বিরুদ্ধে বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বিপজ্জনক ধারণা হচ্ছে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরান অথবা ইসরায়েলের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। রাজনৈতিকভাবে অতীব সরল এ ধারণা কৌশলগত দিক থেকে বিভ্রান্তিকর।

সৌদি আরব ইরানের পাল্টা হামলার জবাবে গোপনে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদন বের হয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে ফাঁস হয়েছে রাশিয়ার গোপন পরিকল্পনা, যাতে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফাইবার-অপটিক ও স্টারলিংক ড্রোন সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণের প্রস্তাব ছিল। জিআরইইউ-এর ১০ পৃষ্ঠার নথিতে ডায়াগ্রাম ও মানচিত্র রয়েছে। ড্রোন সরবরাহ বা প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল বুধবার জরুরি বৈঠকে বসছেন।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সরকারের অনেকেই ইতিমধ্যে বলে ফেলেছেন, ওল্ড টেস্টামেন্টে ‘আর্মাগেডন’ বা ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ প্রেক্ষাপট ইরান যুদ্ধের মধ্য দিয়েই সূচিত হতে যাচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে এমন কিছু উদ্ভট বামপন্থীকে খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল না, যারা ইরানের প্রতিবাদকারীদের সাম্রাজ্যবাদের অসহায় হাতিয়ার বলে আখ্যা দেয়। এদের কেউ কেউ আবার নিকোলা মাদুরো যে স্বৈরশাসক, সেটা স্বীকার করতে চায় না। তারা খামেনি বা মাদুরোর প্রশংসা না করলেও তাদের শাসনব্যবস্থার পতনও চায় না।

ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান এখন ইতিহাসের বিপজ্জনক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশজুড়ে বিক্ষোভ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং স্থায়ী অবস্থায় রূপ নিচ্ছে। নতুন করে অস্থিরতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সহিংসতাও বেড়েছে। প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে আবারও একটি পরিচিত প্রশ্ন সামনে এসেছে। ইরান কি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মতো আরেকটি মোড়ের দিকে এগোচ্ছে।

ইরানের ভেতরে বর্তমানে চলমান সুসংগঠিত গণ-আন্দোলন ছাড়াও দেশ-বিদেশে বেশ কিছু শক্তিশালী বিরোধী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

ইরান শুধু একটি রাষ্ট্র নয়, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর ইরানের প্রভাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হলে এসব নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢুকে পড়বে।