
হাওরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বোরো ধান চাষে কমবে আগাম বন্যার ক্ষতি
হাওরাঞ্চলে বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে মে মাসে—প্রায় ৫০ শতাংশ। আবার এপ্রিলের শেষভাগে বন্যার প্রকোপ থাকে প্রায় ৪২ শতাংশ।

হাওরাঞ্চলে বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে মে মাসে—প্রায় ৫০ শতাংশ। আবার এপ্রিলের শেষভাগে বন্যার প্রকোপ থাকে প্রায় ৪২ শতাংশ।

পাহাড়ি এলাকায় ধান চাষ করতেন সন্ধ্যামণি চাকমা (৬৫)। তবে এ চাষে তেমন লাভ হতো না তাঁর। পানির সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হতো। তবে এখন চিত্র পাল্টেছে। ওই জমিতেই তিনি করছেন আখ চাষ। এতেই বছরে আয় করছেন প্রায় চার লাখ টাকা।


ধানকাটা মৌসুমে সাঁথিয়া ও বেড়ার বিভিন্ন গ্রাম থেকে দল বেঁধে বিভিন্ন জেলায় যান ‘দাওয়াইল্যারা’। যারা কৃষিশ্রমিকের কাজ করে মজুরি হিসেবে পাওয়া ধান নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় এবারের অতিবৃষ্টিতে হাজার হাজার কৃষকের বোরো ধান হাওরের পানিতে তলিয়ে গেছে, যা কোরবানির ঈদ উদ্যাপন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্লিপ্তভাবে জবাব দেন মহরম আলী, ‘ইতা কি আর আমরা পাইতাম! কেউ নামও লিখে নিয়ে যায় নাই।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বোরো দেশের চাল উৎপাদনের প্রধান মৌসুম। এ মৌসুমের শুরুতে সাধারণত চালের দাম কমে। এবারও কমছিল। তবে কমার ধারা স্থায়ী হয়নি। দাম আবার বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এবার কিশোরগঞ্জে অতিবৃষ্টি আর ঢলের কারণে প্রায় ৪৭ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি ধান, আর ধানের মধ্যে বোরো মৌসুম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হাওরে এবার বোরো ধানের ভালো ফলনের আশায় ছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সেই আশা ভেসে গেছে।

ভারতের পুনর্ভবা নদী থেকে আসা পানির ঢালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বোরো ধানের বিশাল ক্ষতি। কৃষকরা দেনার চাপে পড়ে খাদ্যসংকটের মুখে। স্থানীয়রা নদী খনন ও সেতুর দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১০-১২ নেতা-কর্মী এক কৃষকের ধান কেটে সাহায্য করেন। ভিডিওতে তাঁরা দলীয় স্লোগান দিয়ে ধানখেতে কাজ করছেন। পুলিশ শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে বলেছে।