
‘পছন্দমতো’ বিচারক নিয়োগ দিতে দুই অধ্যাদেশ বাতিল
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন সারা হোসেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন সারা হোসেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন এবং খোলাচিঠি লিখেছেন। কমিশনের সচিব বলেছেন, এতে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়েছে। বিদায়ী সদস্যরা ধোঁয়াশায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করায় ৩১ বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের আশঙ্কা করা হয়েছে। সরকারকে নির্বাচনী অঙ্গীকার মেনে চলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিলকে জুডিশিয়ারির হৃৎপিণ্ডে হাত দেওয়া বলে সমালোচনা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন। জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্ত আলোচনায় তিনি এটাকে আত্মঘাতী কাজ বলে উল্লেখ করেন। মো. মাসদার হোসেনও সরকারের এ কাজের কঠোর সমালোচনা জানিয়েছেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংসদে বাতিলের পর পুরোনো আইন পুনর্বহাল হয়েছে। এতে কমিশনের ক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা হ্রাস পাবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ। বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগের আইনে ফেরার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনে সরকারের প্রভাব বাড়বে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের বিধান এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ।

জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের বিচার বিভাগ সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিলের বিল উত্থাপিত হয়েছে। একই দিনে নির্বাচন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সাতটি বিল পাস হয়। বিরোধী দলের আপত্তা এবং বিল উত্থাপনে কিছু তালগোলও ঘটেছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি বরখাস্তের অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। দলটি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দলীয় স্বার্থ প্রাধান্যের অভিযোগ তুলেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ গণভোট অধ্যাদেশ অনুমোদনের আহ্বানও করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি গুরুত্বপূর্ণ চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ নিয়ে সুজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এটিকে তারা বিএনপির অঙ্গীকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মেনে নিয়েছে। সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা করেছে সংগঠন।

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ বেশ কয়েকটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। অধিকার এগুলো জাতীয় সংসদে পাসের আহ্বান জানিয়েছে।

নাগরিক কোয়ালিশন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথককরণ সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশের প্রতিবাদে সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও জনগণের অভিপ্রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিবৃতিতে জাতীয় ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করে সংস্কারগুলো রক্ষার দাবি করা হয়েছে।