‘খোরাকির ধানও কাটতে পারলাম না, কীবায় চলবাম?’
সরকারি হিসাবে হাওরে ৬২ শতাংশ খেতের ধান কাটা হয়েছে। আর অতিবৃষ্টিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৬ হেক্টর জমির ধান।
সরকারি হিসাবে হাওরে ৬২ শতাংশ খেতের ধান কাটা হয়েছে। আর অতিবৃষ্টিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৬ হেক্টর জমির ধান।
শুকাতে না পেরে ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বস্তাসহ সেসব ধান হাওরের পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছেন কিশোরগঞ্জের হাওরের কৃষকেরা।
নেত্রকোনার হাওরে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা বোরো ধান। শ্রমিকসংকট ও অনিশ্চয়তায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নাসিরনগরের হাওরের ফসলে জমির তলিয়ে গেছে। এ ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
কিশোরগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও ঢলে ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। রোদ না থাকায় কাটা ধানও নষ্ট হচ্ছে, দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা।
সুনামগঞ্জে আবার বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হওয়ায় হাওরের ধান কাটা ও শুকানো নিয়ে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। টানা দুর্যোগের পর দুই দিনের স্বস্তি মিললেও গতকাল শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি।
ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরগুলো আবারও ডুবে গেছে।
নেত্রকোনায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কংস নদের পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ১০ মিটার এবং উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কৃষক আবদুল মালিক (৮৫) হাওরে ২৯ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে ২০ বিঘাই তলিয়ে গেছে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে।
চার দিনের বৃষ্টি শেষে দেখা দিয়েছিল রোদ। কিষান–কিষানিরা দলে দলে বেরিয়ে পড়েছিলেন ঘরের বাইরে।
টানা চার দিনের বৃষ্টির পর সুনামগঞ্জেও রোদের দেখা মিলেছে। দুর্ভোগে পড়া হাওরের কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কাটায় শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় জেলার সব বালুমহাল আরও পাঁচ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।