
‘খেত বেচ্চে এবার ঋণ দিতে হইবো’
অতিবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কৃষকদের বিপুল ফসলহানি হয়েছে। ঋণের চাপে অনেকে খেত-বাড়ি বিক্রি করে দেনে ভাবছেন। জেলায় ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর ধান তলিয়ে গেছে, ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকার।

অতিবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কৃষকদের বিপুল ফসলহানি হয়েছে। ঋণের চাপে অনেকে খেত-বাড়ি বিক্রি করে দেনে ভাবছেন। জেলায় ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর ধান তলিয়ে গেছে, ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকার।

হাকালুকি হাওরে ধান ডুবে স্ট্রোক হয়েছে বর্গাচাষি বকুল দাস (৪৫)। সিলেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর অপেক্ষায় তিন সন্তান কিস্তির চাপ সহ্য করছে। ফসলহানি ও ঋণের জন্য পরিবার সংকটে।

মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে অকালবন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষক নোমান মিয়ার ১৬ কিয়ার বোরো ধান। দেনার দায়ে জর্জরিত এ কৃষকের ‘সন্তানসম’ ফসল হারানোর আর্তনাদ ও বুকসমান পানি থেকে ধান উদ্ধারের লড়াইয়ের কথা উঠে এসেছে তাঁর কথায়।

বৃষ্টিতে ফসলহানি হয়ে হাওরে কৃষকের দুর্ভোগের মধ্যে খেতে ভিজে ভিজে ধান কাটার মধ্যে ভাত খাওয়ার যে ভিডিও ছড়িয়েছে, ফ্যাক্ট চেকে দেখা যায়, তা সাজানো হতে পারে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা! স্থান, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ভানুরা বিল হাওর। হালকা মেঘলা আকাশ, চারদিকে শুধু পানি আর পানি।

দুই বন্ধু জানান, এবার মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ কালো ধানের বিক্রয়মূল্য আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

নেত্রকোনায় টানা বৃষ্টির পর রোদ ওঠায় কৃষকেরা স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁরা ধান শুকাতে ও কাটতে পারছেন।

‘পরতি বছর ধান পাই ১২০ থাকি ১৩০ মণ। ইবার অর্ধেক ধান পানিতে গেছে। মনরে খালি বোঝ দিবার লাগি আধা পচা ধান কাটছি।

হবিগঞ্জের হাওরে বৃষ্টির পানিতে জমিতে কেটে রাখা ধানের স্তূপে পচন ধরেছে। একই কারণে মাড়াই করা ধানও শুকানো যাচ্ছে না।

ভোরের আলো ফুটতে শুরু করছে। পূর্বদিক থেকে বইছে মৃদু হওয়া। বাতাসে হেলেদুলে ধানের শীর্ষগুলো একে অপরের ওপর লেপটে যাচ্ছে।

মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে বন্যার পানিতে পাকা ধান তলিয়ে প্রান্তিক কৃষকেরা চরম ক্ষতির মুখে, খরচও উঠছে না।

মৌলভীবাজারের জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলায় হাকালুকি হাওরপারের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের প্রায় একই দশা।