নির্বাচনের পর সহিংসতার নানা খবর: কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা
নির্বাচনের পর কয়েকটি স্থানে সহিংসতার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে, তবে ফেসবুকে এমন আরও খবরে বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। কিন্তু এসব ঘটনা যাচাই করে সব কটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের পর কয়েকটি স্থানে সহিংসতার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে, তবে ফেসবুকে এমন আরও খবরে বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। কিন্তু এসব ঘটনা যাচাই করে সব কটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
উৎসবের আমেজে হয়ে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ। ভোটের মাঠে তেমন অস্থিরতা ছিল না, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আগের মতোই অস্থির ছিল নানা অপতথ্যে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ হবে আগামী বৃহস্পতিবার। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খবর ছড়িয়েছে যে নির্বাচনের জন্য সারা দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এ খবর ভিত্তিহীন।
নির্বাচনের সরগরম প্রচারণার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসহ একটি ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ আসলে এমন কোনো কথা তিনি বলেননি।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়ে আলোচিত সনাতন ধর্মাবলম্বী কৃষ্ণ নন্দীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘প্রতারক’ বলেছেন প্রবীণ রাজনীতিক ড. কামাল হোসেন, এমন একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়ালেও তা আসলে মিথ্যা।
ফেসবুকে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ফটোকার্ড হয়ে উঠেছে বড় হাতিয়ার। আর ভুয়া তথ্যগুলো বিশ্বাসযোগ্য করতে কার্ডগুলো তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কার্ডের আদলে।
বিশ্বকাপ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় একটি দাবি। সেখানে বলা হয়, ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও লিওনেল মেসিকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় (GOAT) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সংসদে সংরক্ষিত আসনে নারী প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে ভুয়া ছবি, তথ্য ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই প্রবণতা নারীদের জনপরিসর থেকে ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে, যা উদ্বেগজনক।
ফেসবুকে তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে একটি কার্ড ছড়ানো হয়েছে, যে কথা তিনি বলেননি। শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ নিয়ে ভিডিও বানিয়ে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি।
ছবি ও ভিডিও ভুল করে সত্যি ভাবার পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছে এআই। তাতে দেখা মানেই বিশ্বাস করার যে অভ্যাস, তা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই ছবি-ভিডিও দেখে বিশ্বাস করার আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
গত ১৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের সচিবালয় অভিমুখী ‘লংমার্চ’-এর সময় ধারণ করা ভিডিওকে এখন ছড়ানো হচ্ছে।