
দিলীপকুমার ভট্টাচার্য্য স্মারক বক্তৃতা ’০৭
খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতকে পারস্য সম্রাট খসরু নওশেরওয়া সংস্কৃত পঞ্চতন্ত্রের একটি পাহলভি অনুবাদ করিয়েছিলেন কালিলা ওয়া দিমনা নামে।

খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতকে পারস্য সম্রাট খসরু নওশেরওয়া সংস্কৃত পঞ্চতন্ত্রের একটি পাহলভি অনুবাদ করিয়েছিলেন কালিলা ওয়া দিমনা নামে।

তিনি যে একাগ্রতার উজ্জ্বলতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঝুঁকি, রং, রূপ, আবেগের যে স্পষ্টতা নিয়ে সৃজনপথ অনুসরণ করেছিলেন, তা আমরা বিস্মরিত হতে পারি।

‘শিল্প অরাজনৈতিক’—এই দাবি আসলে একধরনের নান্দনিক নিরপেক্ষতার কল্পনা, যা নিজেকে অরাজনৈতিক বলে ঘোষণা করার মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক হয়ে ওঠে।

ওয়াইল্ড তাঁর চোখে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের একজন হওয়ার অযোগ্য। জীবনানন্দ দাশের মতে, অস্কার ওয়াইল্ড ‘বিচিত্র সাহিত্যিক ধুরন্ধর’, যার শক্তি ছিল কিন্তু প্রতিভা ছিল না।

শুধু রাজনৈতিক কবিতার মধ্যে লিভারটভের সুনাম সীমাবদ্ধ থাকেনি; কবিতার আঙ্গিক নিয়ে তাঁর ‘অর্গানিক ফর্ম’ তত্ত্বটি আজও বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়।

জেন্ডার স্টাডিজ, উইমেন স্টাডিজ, ফেমিনিজম, ফেমিনিস্ট লিটারেচার, থার্ড ওয়ার্ল্ড লিটারেচার, নৃবিজ্ঞান, এরিয়া স্টাডিজ, সোশিওলজির মতো জ্ঞানকাণ্ডের বিচিত্র শাখার পাঠ্যসূচিতে রোকেয়ার রচনা এখন অন্তর্ভুক্ত।

আমাদের সামাজিক অস্তিত্বের মধ্যে এই টানাপোড়েন, এই দোদুল্যমানতা নিহিত আছে এবং এ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।

তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘ভারতবর্ষে আমরা এমন এক শিক্ষিত শ্রেণি তৈরি করতে চাই, যাদের চামড়া হবে ভারতীয় কিন্তু রুচি হবে ইউরোপীয়।’

তিনি ছিলেন সেই বিরল প্রতিভাদের একজন, যাঁরা স্লোগানসর্বস্ব, কোলাহলপূর্ণ কবিতার যুগেও মিতভাষী, শান্ত অথচ গভীর জীবনবোধের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন।

একই পরিস্থিতিতে ও পরিবেশে দীর্ঘদিন একই ধরনের কাজে নিয়োজিত থাকার ফলে এক ধরনের অভ্যাস, রীতি, দৃষ্টিভঙ্গি, ছন্দ, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবোধ গঠিত হয়।

চোখ বন্ধ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অস্ফুট স্বরে বললেন, ‘আমরা কবিরা স্বপ্ন দেখি যে ইহুদিরা জাতীয়তাবাদের পশ্চিমা ধারণা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারলে ফিলিস্তিনকে তারা গড়তে পারবে।’

মাইকেল তাঁর মহাকাব্যে জীবন থেকে চরিত্র না নিয়ে বরং চরিত্রদের জীবন দান করে বিশ্বস্তভাবে অটল থাকেন হিন্দু পুরাণের জগতে।