জ্বালানি সংকটে ইউরোপের উদ্বেগ: পারমাণবিক বিদ্যুতে নতুন আগ্রহ
জ্বালানি সংকটে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য পারমাণবিক বিদ্যুতে নতুন আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ নীতিগত পরিবর্তন এবং এসএমআর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। তবে নিরাপত্তা ও বিলম্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
জ্বালানি সংকটে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য পারমাণবিক বিদ্যুতে নতুন আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ নীতিগত পরিবর্তন এবং এসএমআর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। তবে নিরাপত্তা ও বিলম্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ চালনার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও হুমকির কারণে এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে তেহরান এখনো উদ্বিগ্ন।
জাহেদ উর রহমান রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র, গণমাধ্যম তথ্য, অর্থনৈতিক প্রকল্প ও নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন হয়েছে। বিভিন্ন খাতের সংস্কারের পুস্তুক তৈরি হয়েছে। এই সংস্কার প্রস্তাবগুলো এখন মিউজিয়ামে রাখার সময় হয়েছে।’
সানেমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেলের দাম ৪০% এবং এলএনজি ৫০% বাড়লে জিডিপি ১.২% কমতে পারে, রপ্তানি ২% এবং আমদানি ১.৫% হ্রাস পাবে। মূল্যস্ফীতি ৪% বাড়বে এবং প্রকৃত মজুরি ১% কমবে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সানেম নবায়নযোগ্য শক্তি ও মজুত তৈরির সুপারিশ করেছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম নিয়ে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত হবে এবং পুঁজিবাজারে বড় পরিবর্তন আসছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে তেল-গ্যাস আমদানির চাপ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় আশা প্রকাশ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানির বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।