গ্যাস–সংকটে হঠাৎ বেড়েছে বৈদ্যুতিক চুলার বেচাকেনা
ভোক্তারা দোকানে দোকানে ঘুরেও সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না। আবার কেউ সিলিন্ডার পেলেও দাম দিতে হচ্ছে দেড়-দুই গুণ।
ভোক্তারা দোকানে দোকানে ঘুরেও সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না। আবার কেউ সিলিন্ডার পেলেও দাম দিতে হচ্ছে দেড়-দুই গুণ।
শিল্পমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে প্রায় এক মাস ধরে গ্যাসের বেশি সরবরাহ–সংকট রয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে এই সংকট তীব্র হয়েছে।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিলিন্ডার গ্যাস ঘরে রাখতে নেই। তাতে আকস্মিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। সামান্য এই ভুলের কারণেই মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ—দুটোতেই সংকট দেখা দেওয়ায় ঢাকাজুড়ে বাসিন্দারা প্রতিদিনের রান্না চালাতে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন।
শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস ও মাইক্রোবাসের চালকদের কর্মঘণ্টা এখন গ্যাসের লাইনে নষ্ট হচ্ছে। দৈনিক ঘাটতির মধ্যেই সীমিত সরবরাহ চালাতে হচ্ছে—এমনটাই জানিয়েছে কেজিডিসিএল ও সংশ্লিষ্টরা।
১৫টি কারখানার মালিকপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কারখানাগুলোর উৎপাদন কমেছে ৪০%।
চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ কম থাকার সমস্যা নতুন নয়। তবে গত মঙ্গলবার মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ভাড়া বাসায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে আনোয়ার হোসেন ওরফে শাহিন (২৫), শিশু হাফসা ও ফাহিমা (২০) মারা যান। দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমানো এবং বিদ্যুৎ বিলের ‘হিডেন চার্জ’ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। দাবি না মানলে পেট্রোবাংলা ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রামে চলমান গ্যাস–সংকট এখন বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানা ছাড়িয়ে সড়কেও প্রভাব ফেলছে।
সিএনজি চালিত অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহের দাবিতে ময়মনসিংহের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন চালকেরা, এতে দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
গ্যাসের তীব্র সংকটে চট্টগ্রামের ষোলশহর মোড়ে সিএনজি চালকদের সড়ক অবরোধের ফলে মুরাদপুর থেকে ২ নম্বর গেটমুখী সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।