ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনে কি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আজ শনিবার সকালে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক সংঘাতের মধ্যে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আজ শনিবার সকালে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক সংঘাতের মধ্যে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে।
গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খসড়া সমঝোতা স্মারকে সই হয়।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড ইরানি ট্যাঙ্কারে হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণের হুমকি দিয়েছে। ট্রাম্প ওয়াশিংটনের শান্তি প্রস্তাবে ইরানের দ্রুত জবাব আশা করছেন। লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা চলছে, খারগ দ্বীপে তেল ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এক খোলাচিঠিতে ইরানে মার্কিন হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বলে সতর্ক করেছেন। হার্ভার্ড, ইয়েলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্পের হুমকি ও স্কুল হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইরানের অনুরোধে হুতিরা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে লোহিত সাগর ও বাব আল–মানদেব প্রণালিতে মার্কিন রণতরির চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বড় অভিযানকে মন্থর করাই তাদের লক্ষ্য। এছাড়া সৌদি পাইপলাইন নিয়ে নতুন সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর হামলা জোরদার করছে ইরানপন্থী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাদের লক্ষ্যবস্তুও করছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের সব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি ইরানের।
লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। তাদের দাবি, সামুদ্রিক অবরোধ অমান্য করায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চলানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি আরব। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, লোহিত স
যুদ্ধের বিস্তার এবং আমেরিকান ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে ফের উত্তপ্ত করে তুলেছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ভেস্তে যেতে বসেছে চলমান শান্তি আলোচনা ও সমঝোতা চুক্তি।
কাতারের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাতের ধারণা, ইসরায়েল সীমিত পরিসরে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক হামলা চালিয়ে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। ট্রাম্পের কঠোর ভাষা এর ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি মনে করেন। ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্রের মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।