সুন্দরবনের পাশে মৌচাষ, জীবনের ঝুঁকি ও বনের ওপর চাপ কমছে
বাঘ, জলদস্যু ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে অনেকেই এখন বনসংলগ্ন এলাকায় মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন।
বাঘ, জলদস্যু ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে অনেকেই এখন বনসংলগ্ন এলাকায় মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন।
সুন্দরবনে বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফেরা বনজীবী ঈমান আলী এখন বনদস্যুদের ভয়ে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন সেই বনে যেতে পারছেন না।
কালবৈশাখীতে দিগ্ভ্রান্ত হয়ে সুন্দরবনের গভীরে নিখোঁজ থাকা নয়জন মৌয়ালের মধ্যে সাতজনকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
সুন্দরবনে দস্যু ডাকাতির আতঙ্কে বনজীবীরা অস্থির। দেড় বছরে ৬১ দস্যু গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধার সত্ত্বেও মৌয়াল-জেলেরা চাঁদা দিয়ে বাঁচছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও সমস্যা অমীমাংসিত।
পয়লা এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হওয়ার কথা ছিলেও বনদস্যুরা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌয়ালরা চাঁদা দিতে বাধ্য হয়ে বনে প্রবেশ করতে পারছেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিশ্ছিদ্র টহল চালাতে হবে।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে অপহৃত ৯ জেলের মধ্যে ৬ জন মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এখনো ৩ জন বনদস্যুদের জিম্মিতে রয়েছেন। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঘটনায়।
১৯৯১ সালের মাঘ মাসে সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীতে বাঘের আক্রমণে পড়ে যান মুক্তার হোসেন গাজী। পানির নিচে লড়াই করে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসেন তিনি। এখন তাঁর ছেলেরা মৌবাক্স নিয়ে মধু আহরণ করছেন, নেপালে সম্মেলনে যাচ্ছেন মুক্তার।
সুন্দরবনের খড়কুড়িয়া খালে জোনাব বাহিনীর কাছ থেকে কোস্টগার্ড এক জেলেকে উদ্ধার করেছে। মজিবর গাজী নামের এই জেলেকে মুক্তিপণ না পেয়ে দস্যুরা মারধর করে বেঁধে রেখেছিল। কোস্টগার্ডের অভিযানে দস্যুরা পালিয়ে যায়।
অভিযানের সময় দস্যুরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেদের রেখে সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যায়। এ কারণে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে নিহত জেলে সুব্রত মণ্ডলের পরিবারকে সরকারিভাবে তিন লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে নিহত জেলে ও বাওয়ালিদের স্ত্রীদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সুন্দরবনের একটি খাল থেকে শিকারিদের ফেলে যাওয়া নৌকা তল্লাশি করে জবাই করা একটি হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগের টহল দল।