
সীমান্তে ৬৮ স্থানে নিয়ম লঙ্ঘন, দিল্লির কাছে ঢাকার প্রতিবাদ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সপ্তাহে ভারতকে বলেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সপ্তাহে ভারতকে বলেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের পুশ ইনকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভীষণ অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নারী–শিশুসহ অনেক মানুষকে সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে দেখা যায়। তারা খাদ্য পানি আশ্রয় ছাড়াই দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হন।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গত তিন মাসে ৫০-এর অধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশ ইনের ঘটনা ঘটেছে।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর সীমান্ত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে আবার পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। একই স্থান দিয়ে আগেও পুশ ইনের চেষ্টা হয়েছিল।

পুশ ইন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার এসেছে, তাদের একটা রাজনীতি আছে, সেটারই একধরনের বহিঃপ্রকাশ এটা।

দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশ ইনের ঘটনার পর কুমিল্লা সীমান্তে সতর্কতা বাড়িয়েছে বিজিবি। গোমতী নদীকেন্দ্রিক এলাকায় দিন-রাত টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল খালেক (৩০) নামে এক রোহিঙ্গা তরুণের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কারও দিক থেকেই এটা করা বাঞ্ছনীয় নয়। এর শুরুটা করেছে ভারত, ফলে দায়িত্বটাও তাদের ওপর থাকবে।

বিশ্বের প্রায় সর্বত্র উগ্র জাতীয়তাবাদের কদর এখন। এই মতাদর্শের বড় এক উপাদান ‘অপর’কে অশান্তিতে রাখা। এটাই অনেক অঞ্চলে তার জনপ্রিয়তার জাদু।

সংগত কারণেই এবারের সম্মেলনে ‘অবৈধ পুশ ইন’ বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি এখন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারতীয় নাগরিকদের পুশ ইনের মাধ্যমে যেন বাংলাদেশে ঢোকাতে না পারে, সরকারের উদ্দেশে বলেছেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির নেতারা।