
চীন সম্ভবত রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও এড়াতে চায়।
গত বছর রাশিয়া ও চীন পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২ প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। কিন্তু বেইজিংকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়া চায় না।

গত বছর রাশিয়া ও চীন পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২ প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। কিন্তু বেইজিংকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়া চায় না।

অস্ত্র বিক্রিকে দর-কষাকষির হাতিয়ার বানিয়ে বেইজিংকে বড় উপহার দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

‘বিশ্ব আবারও এক নতুন সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে।’ বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ কথা বলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। এরপর সি প্রশ্ন তোলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত “থুসিডাইডিস ফাঁদ” অতিক্রম করে বৃহৎ শক্তিগুলোর সম্পর্কের নতুন এক ধারা তৈরি করতে পারবে?’

বেইজিংয়ে সি চিন পিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধ ও থুসিডাইডিসের ফাঁদ নিয়ে আলোচনা হয়।

বেইজিং বৈঠকে সি চিন পিং ট্রাম্পকে ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’ নিয়ে সতর্ক করেন, যা উদীয়মান ও প্রতিষ্ঠিত শক্তির মধ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি নির্দেশ করে। তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি সংঘাতের আশঙ্কা তুলে ধরেন। ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির কথা বলেন।

ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার পরপরই আগামী সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেইজিং যেতে পারেন। এটি বেইজিং-মস্কোর নিয়মিত যোগাযোগের অংশ। চীন এর মাধ্যমে একই মাসে দুই শীর্ষ পরাশক্তির নেতার আতিথেয়তা দেবে।

বাণিজ্য, তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে আলোচনার পর সি চিন পিং ট্রাম্পকে বেইজিংয়ের গোপন ‘ঝংনানহাই’ চত্বরে নিয়ে হাজার বছরের পুরানো গাছ দেখান। গোপন মাইক্রোফোনে রেকর্ড হওয়া তাঁদের অনানুষ্ঠানিক কথোপকথন বিস্ময়কর। পুতিনের মতো খুব কম নেতাই এখানে আসেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ইরান যুদ্ধ বন্ধে সহায়তা এবং হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, চীন ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম দেবে না। বেইজিংয়ে বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্কতার কথাও বলেছেন সি।

বেইজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের রাষ্ট্রীয় ভোজে হুয়াইয়াং রান্নার পাশাপাশি ট্রাম্পের প্রিয় স্টেক ও তিরামিসু ছিল। চীন কূটনীতিতে খাবারকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে। এই ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশৈলী বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়।

চীনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্পের সঙ্গে বেইজিং সফর করেছেন এবং সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। চীন তাঁকে নতুন চীনা নাম দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। এ ঘটনা এখন ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে।

বেইজিংয়ের ৬০০ বছরের টেম্পল অব হেভেনে ঘুরে দেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিং। আগে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ হয়েছে তাঁদের বৈঠক। সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছেন বৈঠক ‘দারুণ’ হয়েছে।

বেইজিংয়ে আজ চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।